নিয়ম লঙ্ঘন ও জালিয়াতির অভিযোগে ঘেরা, তবু সুপার পদে ওলামালীগ নেতা

খায়রুল ইসলাম ভূইয়া: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহপুর দারুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসা-র সুপার মোঃ আবুল কাশেম এর বিরুদ্ধে নিয়োগে জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সুপার পদে আবেদনের সময় নিয়ম অনুযায়ী সকল স্তরে শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ থাকার শর্ত থাকলেও, আবুল কাশেম আলিম ও ফাজিল পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ অর্জন করেন। এই তথ্য গোপন করে তিনি নিয়োগ লাভ করেন, যা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সুপার পদে নিয়োগের সময় তার দশ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা পূর্ণ হয়নি। তা সত্ত্বেও, অভিজ্ঞতার শর্ত উপেক্ষা করে তিনি মিথ্যা তথ্য প্রদান করে জালিয়াতির মাধ্যমে সুপার পদে নিয়োগ লাভ করেন, যা প্রক্রিয়াগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, তিনি নিয়োগপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে যোগদানের তারিখ পরিবর্তন করে জালিয়াতি করেছেন। ২০০৩ সালের ৩ ডিসেম্বর তারিখে ইস্যুকৃত আসল নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী তিনি ৮ ডিসেম্বর ২০০৩ তারিখে সুপার পদে যোগদান করেন। কিন্তু ওই তারিখে তার ১০ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ না হওয়ায়, তিনি সেই নিয়োগপত্র ঘষামাজা করে, একই স্মারক নম্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়া কপি তৈরি করেন, যাতে ৩ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে, ১ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে তিনি নতুন করে যোগদান করেন-অথচ সেদিনও তার অভিজ্ঞতা ১০ বছর পূর্ণ হয়নি।

এই ঘটনায় প্রশাসনিক রেকর্ড বিকৃতি এবং পদ দখলে জালিয়াতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকমহলে এ নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বিষয়টি নিয়ে সরকারি তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরাহার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অচিরেই বিষয়টি উচ্চমহলে রিপোর্ট আকারে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সুপার মোঃ আবুল কাশেম আওয়ামী ওলামা লীগ-এর রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ফলে তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় জালিয়াতি করেও একসময় আওয়ামী সরকারদলীয় প্রভাবের কারণে দায়মুক্তি ভোগ করেছেন। স্থানীয় মহলের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলার সাহস পায়নি। বর্তমান বাস্তবতায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি তার অনিয়ম তদন্তে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহপুর দারুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসা-র সুপার মোঃ আবুল কাশেম বলেন, এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কারণ আনোয়ার চেয়ারম্যান সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। তিনি না হতে পেরে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি ইন্জিনিয়ার নেসার আহমেদ বলেন, সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগের সময় সুনির্দিষ্ট জাল জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় আজকে আমিও সুপারকে শোকজ নোটিস দিয়েছি।

এ ব্যাপারে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ দিলশাদ জাহান জানান, আব্দুল্লাহপুর দারুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসা-র সুপার মোঃ আবুল কাশেম এর বিরুদ্ধে নিয়োগে জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগটি তদন্ত রিপোর্ট অফিসিয়াল পেয়েছি। যতদ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ