নান্দাইলে সেতু আছে রাস্তা নেই ॥ দূর্ভোগ
মজিবুর রহমান ফয়সাল: উপজেলার একটি গ্রামীন সড়কের সেতু আছে কিন্তু রাস্তা না থাকায় চরম দূভোর্গে পড়েছে ঘোষপালা সরকারী প্রাথমিক ও ঘোষপালা ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সহ কয়েক গ্রামের সাধারণ মানুষ। রাস্তার অভাবে সেতুটি কোন কাজে আসছে না। ফলে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী সেতুটি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানালেও অদ্যবদি চলাচলের উপযোগী হয়নি সেতুটি। স্থানীয়দের দাবি সেতুটি যেনো দ্রুত চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।
পৌর মহল্লার সীমানা ঘেষে চন্ডীপাশা ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে একটি খালের ওপর জিরাপের মতো সেতুটি দাড়িয়ে আছে। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কে চলাচলের জন্য এই সেতুটি ব্যবহার করা হতো। সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্মিত এ রাস্তাটি পরিবর্তন করে নতুন রাস্তা হওয়ার পর থেকে রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু দশালিয়া, ডাংরী, চন্ডীপাশা, ঝাউগড়া, সুতারাটিয়া, ঘোষপালা এলাকার মানুষ এই রাস্তাটি দিয়েই চলাচল অব্যহত রেখেছে। এই রাস্তাটি হয়ে আমলীতলা বাজার, গইছ খালি বাজার, ঘোষপালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘোষপালা ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সহ ৫-৭টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে সড়কটি কোন সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে সড়কের মাটি ক্ষয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ছুটির পর লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে সেতু পার হচ্ছে ঘোষপালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। লাফ দিয়ে পার হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সকলেই এক সাথে বলে, এভাবেই প্রতিদিন পার হতে হয় তাদের। ষাটউর্ধ্ব স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী জানায়, সড়কবিহীন সেতুটি ধান শুকানো ও মারাই ছাড়া এখন কোন কাজে আসে না। অথচ সেতুটি তৈরীর সময় এখানে রাস্তা ছিল। তিনি আরো বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করে সেতুটি চলাচল উপযোগী করার জন্য বার বার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের তারা অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের কথা কেউ কর্ণপাত করেনি। ঘোষপালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিনা আক্তার বলেন, পানি আর ফসলি জমির মধ্যে ভাসছে সেতু। সেতুর এপার ওপার হতে চাইলে কষ্ট করে উঠে লাফ দিয়ে নামতে হয়। এতে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আট শতাধীক শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অনেক সময় লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে মাটিতে পড়ে হাত-পা ভাঙ্গার ঘটনাও ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবিএম সিরাজুল হক বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি সংযোগ সড়কের জন্য প্রস্তাব দেন তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। চন্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, দশালিয়া গ্রামের রাস্তাটি দ্রুত চালু করে সেতুটি কার্যকরী করার ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা আক্তারকে অবহিত করা হলে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ^াস দেন।

