সবাই বিসিএস প্রিলিতে টিকে গেল, আমার কপালটাই পোড়া

ঈদের আগে থেকেই রেজাল্ট নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলাম। একবার শুনি, ঈদের পরে; আরেকবার শুনি, লকডাউন শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরে। লকডাউনের পর রেজাল্ট দেবে শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম। লকডাউনের পরে দিলেই ভালো হতো। অথচ রেজাল্টটা দিল কঠোর লকডাউনের মধ্যেই। আমার মিষ্টির ব্যবসার বারোটা বাজিয়ে দিল! আমার কত আশা ছিল। ফুরিয়ে গেল সব।

করোনা আইসা এমনিতেই আমাদের আশা ফুরাইছে। ব্যবসার অবস্থা ভালো না। এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট নাই। ওই সিজনে মণকে মণ মিষ্টি বিক্রি করতাম। আহারে সেই সব দিন! ভার্সিটিগুলার ভর্তি পরীক্ষা নাই যে চান্স পেয়ে মিষ্টি বিতরণ করবে। বড় কোনো চাকরির পরীক্ষাও হয় নাই।

সবাই বিসিএস প্রিলিতে টিকে গেল, আমার কপালটাই পোড়া ভরসা ছিল বিসিএস নিয়ে। ভেবেছিলাম, করোনা মহামারিতে বিসিএস প্রিলিটাই বিরাট কিছু। এতে টিকে গেলে মানুষ খুশিতে আত্মহারা হয়ে মিষ্টি বিতরণ করবে। আমার ধারণা ঠিক ছিল। প্রিলিতে চান্স পেয়ে ফেসবুকে দেখি একেকজন সেই খুশি। কিন্তু এই মরণের কঠোর লকডাউনের জন্য মিষ্টি বিতরণ হলো না। এত মানুষ বিসিএসে টিকল, অথচ মিষ্টির দোকানটাই খুলতে পারলাম না। এই দুঃখ আমি কই রাখি! আমাদের কথা ভেবেই হয়তো গরিবের মহানায়ক কাজী মারুফ বলেছেন, ‘সবার অঙ্ক মেলে, আমার অঙ্ক মেলে না।’

Source: prothomalo

%d bloggers like this: