মাজার–ই–শরিফ থেকে ভারতীয়দের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট দিল্লির

পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতীয়দের তাই দ্রুত আফগানিস্তান ছাড়তে বলা হচ্ছে। মঙ্গলবারই এ বিষয়ে বিশেষ বার্তা জারি করা হয়েছে ভারতীয় দূতাবাস থেকে। বলা হয়েছে, উত্তর আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরিফ শহর ও তার আশপাশে থাকা ভারতীয়রা যেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে উঠে পড়েন। মঙ্গলবার রাতেই সেই বিশেষ ফ্লাইট ভারতে ফিরবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর আফগানিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছে। একটার পর একটা শহর তালেবানদের কবজায় চলে যাওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানদের লড়াই চলছে দেশজুড়ে। সাবধানতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঠিক এক মাস আগে, ১০ জুলাই, কান্দাহার কনস্যুলেট বন্ধ করে প্রায় ৫০ জন ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

এবার পালা মাজার-ই-শরিফের। সেখান থেকে কত ভারতীয়কে মঙ্গলবার ফেরত আনা হবে সে বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি।
আফগানিস্তানের মোট চারটি দূতাবাসের মধ্যে কাবুল ছাড়া মাজার-ই-শরিফই এত দিন পর্যন্ত চালু ছিল। মঙ্গলবার সেই কনস্যুলেট থেকে এক টুইট বার্তায় বলা হয়, রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক বিশেষ বিমান নয়াদিল্লি রওনা হবে। মাজার-ই-শরিফে কর্মরত কূটনীতিক, দূতাবাস কর্মী ও শহরের অন্যান্য ভারতীয়রা সেই বিমানে যেন দেশে ফিরে যান।

গত কয়েক মাসে মাজার-ই-শরিফ কনস্যুলেটের কর্মী সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছিল। সেখানকার কনসাল জেনারেল বিনেশ কালরা গত মে মাসে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে কাবুলের হাসপাতালে মারা যান। সেই থেকে কোনো কূটনীতিক তাঁর স্থলাভিষিক্ত হননি।

উজবেকিস্তানের সীমান্তবর্তী এই শহরও এখন মোটেই নিরুপদ্রব নয়। মাজার-ই-শরিফের কাছাকাছি তিন বড় শহর কুন্দুজ, আইবক ও শেবারঘানের দখল তালেবানদের হাতে চলে গেছে। তাদের নজরে এবার আফগানিস্তানের চতুর্থ বড় শহর মাজার-ই-শরিফ। স্বাভাবিক কারণেই ভারত কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

গত সপ্তাহে ভারতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়েছিল, আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় এই মুহূর্তে অন্তত দেড় হাজার ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মী।

আফগানিস্তানে ভারতের মোট দূতাবাসের সংখ্যা চার। কান্দাহার ও হেরাত আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাজার-ই-শরিফে কাজ চালানো হচ্ছিল সামান্য লোক রেখে। এবার তাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাকি থাকছে কাবুলের দূতাবাস। সেখানেও কূটনীতিক ও কর্মী সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তানে ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়াদিল্লি শঙ্কিত।

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: