ভাসমান পেয়ারা বাজার ভ্রমন

বরিশাল আর পিরোজপুরের ভাসমান বাজার যেন জলের এক স্বর্গ রাজ্য । ছোট ছোট নৌকাতে চড়ে যাবার সময় বড় বড়গাছের ছায়ায় ছোট্ট ছোট্ট খালগুলো কি যে সুন্দর আর রহস্যময় সেটা এখন বলে বোঝাতে পারবোনা।দু’পাশের বিশাল রেইনট্রি গাছের ঝুলন্ত ডালগুলোর পাশ দিয়ে নৌকা যাবার সময় ডালগুলো হাত বাড়িয়ে ধরতে বেশ মজা লাগে, আবার বড় গাছের মাথায় বানানো শকুনের বাসাগুলো মাঝে মাঝে উঁকি দেবে হঠাৎ ।খালের সেই অপার সৌন্দর্য আপনার মনকে নিশ্চিৎ দোলা দিয়ে যাবে। ভ্রমণে যে পরিপূর্ণ শান্তি আসে মনে সেটা আপনি এখানে গেলে পাবেন ।

যাঁরা কেরালার ব্যাকওয়াটারের ছবি দেখে হা-পিত্যেস করেন তাঁরা দেখে আসুন বরিশাল আর পিরোজপুরের এই জলের স্বর্গরাজ্য।এটি কেরালা ব্যকওয়াটারের চেয়েও সুন্দর আর পীসফুল।ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল- এ কথা তো অনেকেই জানে। কিন্তু অনেকেই জানেননা এ নদী-খালের মধ্যে কী অপরিসীম স্বর্গীয় সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।

বরিশালে প্রতি এলাকায়ই একটি নদী নিদেন পক্ষে একটি খাল রয়েছে। ভরা বর্ষায় তো বটেই, শীতকালেও এসব খালে পানি প্রবাহ থাকে। তাই বছর ভর ঘুরে বেড়ানো যায় শান্ত স্নিগ্ধ এ এলাকায়। ছোট খালের দুই পাশে কোথাও ফসলের মাঠ, কোথাও পতিত ভূমিকোথাও বা বসতবাড়ি- সব কিছুই ছবির মতো মনে হবে আপনার কাছে। কিছুক্ষণ পর পর আছে গ্রামীণ ছোট বাজার। আর সে বাজারের আছে টাটকা সবশাকসবজি। দুপুরে খেতে চাইলে আছে তারও ব্যবস্থা।যদি গ্রামে থাকতে না ভালো লাগে একদিন শহরে থেকে পরদিন বানারীপাড়া, নেছাড়াবাদ, আটঘর, কুড়িআনা, বৈঠাকাঠি এসব জায়গায় ক্যানেল ঘুরে আসতে পারেন। সেই ব্যবস্হাও আছে ।এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে জিনিসটি আপনার মন কেড়ে নেবে তা হলো ফ্লোটিং মার্কেট বা ভাসমান বাজার। পানিপ্রধান অঞ্চল বলে স্বভাবতই এখানকার জীবনযাত্রায় নৌকার ভূমিকা প্রবল। কতটা প্রবল তা এখানে না এলে বোঝা যাবে না।কিছু কিছু এলাকার অধিবাসীদের বাণিজ্যের বেশ বড় অংশ চলে জলে বসে। আর এ কারণেই বরিশাল, পিরোজপুরে আর ঝালকাঠিতে গড়ে উঠেছে অনেক ভাসমান বাজার। বরিশালের বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীতে প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার বসে বিশাল ধান আর চালের ভাসমান বাজার। খুব সকাল থেকেই কয়েকশ নৌকায় করে কারবারি ও গৃহস্থরা ধান চাল নিয়ে আসে বিক্রির জন্য। অনেকে আসে খালি নৌকা নিয়ে চাল কিনতে। পুরো প্রক্রিয়াটাই চলে নদীতে বসে।ধানের বাজার ছাড়াও আছে ভাসমান সবজি বাজার। নাজিরপুরের বৈঠাকাঠা, উজিরপুরের হারতা, মাহমুদকাঠিসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় আছে এ হোটেলে থাকাও হবে একটা অভিজ্ঞতা।

যেভাবে যাবেন ঢাকা সদরঘাট থেকে সন্ধার লঞ্চে রওনা দিয়ে পরের দিন সকালে বরিশাল লঞ্চ ঘাটে নেমে পড়বেন। ভাড়া ডেক ক্লাস ২০০ টাকা।
সকাল বেলা ঘাট থেকে বেরিয়ে নাস্তা সেরে স্বরুপকাঠি যাওয়ার জন্য লেগুনা রিজার্ভ করতে হবে ভাড়া ৪০০/৫০০ টাকা ১৪ জন বসা যায় ১ লেগুনায়।
তারপর ১/১.৫ ঘন্টার জার্নি শেষে স্বরুপকাঠি পৌছে যাবেন। এবং সেখান ট্রলার নিয়ে ঘুরতে হবে পুরা ভাসমান পেয়ারা বাজার। রিজার্ভ ট্রলার ভাড়া নিবে ২০০০ /৩০০০ টাকার মতো। আমরা ১ ট্রলারে ২০ জনের মতো ছিলাম। জায়গাটা আসলেই অনেক সুন্দর।

কখন যাবেনঃ
জুলাই থেকে আগস্ট মাস এর প্রতিদিনই জমে এই বাজার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে।

কোথায় থাকবেনঃ
আপনি দিনে যেয়ে দিনেও ফিরে আসতে পারেন। আর রাত্রি যাপন করতে চাইলে বরিশাল নতুল্লাবাদ চলে আসতে পারেন। অথবা ঝালকাঠি শহরের দু একটি হোটেল হলো কালিবাড়ি রোডে ‘ধানসিঁড়ি রেস্ট হাউস, বাতাসা পট্টিতে আরাফাত বোর্ডিং, সদর রোডে হালিমা বোর্ডিং ইত্যাদি। ভাড়া ১০০ থেকে ২৫০ টাকা।

কোথায় খাবেনঃ
ভিমরুল,আটঘর,কুড়িয়ানা এসব বাজারের পাশেই খাবারের হোটেল আছে মোটামুটি মানের।অথবা জেলা সদরে ফিরে এসেও খাওয়া দাওয়া সেরে নিতে পারেন।

আশেপাশের দর্শনীয় স্থানঃ
ভাসমান পেয়ারা বাজার ভ্রমন এর পাশাপাশি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ গুঠিয়া মসজিদ ঘুরে আসতে পারেন ও সাথে দুর্গা সাগর দিঘি। বানারিপারা থেকে বরিশাল আসার পথে সড়কের পাশেই অবস্থিত এই দুটি স্থান।

টিপস ও পরামর্শঃ
১) গ্রুপ করে গেলে ভাল ।
২) নৌপথে যাওয়াই ভালো সড়ক পথ থেকে।
৩) রেইন কোট , ছাতা নিয়ে যাবেন।
৪) বাগানে ঢুকে পেয়ারা ছিড়বেন না।
৫) আমাদের প্রকৃতি রক্ষার দায়িত্ব