বরিশালের ইউএনও-ওসির বদলির পুরোনো আদেশ আলোচনায়

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলির আদেশ হয়েছে ১০ আগস্ট। একইভাবে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলামের বদলির আদেশ হয় ১৭ আগস্ট।

কিন্তু ১৮ আগস্ট রাতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার পর বদলির বিষয়টি সামনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ইউএনও-ওসির বদলির ঘটনাকে ১৯ আগস্টের অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে নানাভাবে পোস্ট দিচ্ছেন।

প্রশাসন সূত্র জানায়, ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার উপসচিব আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর করা একটি প্রজ্ঞাপনে ইউএনও মুনিবুরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন জারির পর দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও ইউএনও মুনিবুর রহমান এখনো বরিশালের কর্মস্থলে আছেন।

মুনিবুর রহমান ২০২০ সালের ৪ মে বরিশাল সদরের ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ইউএনও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ইউএনও মুনিবুরের স্থলে নতুন কাউকে এখানে পদায়ন না করায় তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সদরের সহকারী কমিশনারও (ভূমি) করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে না পারায় জেলা প্রশাসক তাঁকে (মুনিবুর) ওই পদে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, ইউএনও মুনিবুর রহমানের বদলি তাঁর ইচ্ছায় ১০ আগস্ট হয়েছে। কিন্তু সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) করোনায় আক্রান্ত থাকায় তাঁকে কাজ চালিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিলেই ইউএনও তাঁর কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন। কাজেই ইউএনওর বদলি স্বাভাবিক।

 ওসি নুরুল ইসলাম

ওসি নুরুল ইসলাম

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি হয় ১৭ আগস্ট। তাঁকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মাইনুর রেজা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২৫ আগস্টের মধ্যে তাঁকে (নুরুল ইসলাম) ছাড়পত্র গ্রহণ করে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। ২৫ আগস্টের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ না করলে ২৬ আগস্ট থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হয়েছেন বলে গণ্য হবে। জনস্বার্থে তাঁকে বদলি করা হলো। নুরুল ইসলাম ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ম

১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের বাসায় হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীদের রুখতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রতিবাদে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে বরিশালে সড়ক ও নৌযান চলাচল প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকে। ওই ঘটনার পর বরিশাল নগরের বর্জ্য অপসারণের কাজ বন্ধ রাখেন বিসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। হামলার ঘটনায় ১৯ আগস্ট উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়। দুটি মামলাতেই বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতা-কর্মীকে মামলায় আসামি করা হয়। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নগরের সড়ক ও বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রাখেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এতে দুর্ভোগের শিকার হন নগরবাসী।

এরপর মেয়রের নির্দেশে গত শনিবার রাত নয়টা থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। রোববার দুপুরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং বিসিসির রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হাওলাদার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি নালিশি আবেদন দাখিল করেন।

নালিশি আবেদনে ইউএনও মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি থানার ওসি নুরুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ্ জালাল মল্লিক ও পাঁচ আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে সিটি মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পুলিশের লাঠিপেটাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: