প্রো কাবাডিতে দল পেলেন তুহিন, মাসুদ, জিয়াউর

ভারতের প্রো-কাবাডি লিগের নিলামে ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের আট খেলোয়াড় আরদুজ্জামান মুন্সি, তুহিন তরফদার, জাকির হোসেন, সবুজ মিয়া, মাসুদ করিম, জিয়াউর রহমান, মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হাসান।

এর মধ্যে তুহিন তরফদার, মাসুদ করিম ও জিয়াউর রহমানকে কিনে নিয়েছে প্রো–কাবাডির তিনটি দল। ডিফেন্ডার তুহিন তরফদারকে ১০ লাখ রুপি দিয়ে কিনেছে তামিল তালাইভাস। ১০ লাখ রুপি দিয়ে ইউপি ওয়ারিয়র্স কিনেছে রেইডার মাসুদ করিমকে। সর্বশেষ মৌসুমে এই দামেই  তাঁকে কিনেছিল  ইউপি ওয়ারিয়র্স। এবার ডিফেন্ডার জিয়াউর রহমানকে ১২ লাখ ২০ হাজার রুপি দিয়ে কিনেছে বেঙ্গালুরু বুলস।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুম্বাইয়ে কাবাডি খেলোয়াড়দের নিলাম চলছিল। তবে বিদেশি খেলোয়ারদের কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বাকি খেলোয়াড়েরা অবিক্রীত থাকলেন।

ক্রিকেটের আইপিএলের আদলে গড়া পেশাদার কাবাডি লিগ প্রো-কাবাডির এটা অষ্টম আসর। এবারের মৌসুমের নিলাম আয়োজন হওয়ার কথা ছিল গত এপ্রিল মাসে। আর জুন-জুলাইয়ে শুরু হওয়ার কথা ছিল চলতি মৌসুমের প্রো-কাবাডি। কিন্তু ভারতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রো-কাবাডি লিগ স্থগিত হয়ে গেছে। এই টুর্নামেন্ট এখন ডিসেম্বরে হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪৪২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে নিলামের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের আটজন। এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশি খেলোয়াড় সুযোগ ডাক পেয়েছেন প্রো-কাবাডির নিলামে।

তুহিন তরফদার এর আগে ২০১৬ সালে খেলেছিলেন ইউ মুম্বাতে। আর মাসুদ করিম ২০১৭ ও ২০১৮ সালেও খেলেছেন ইউপি যোদ্ধার হয়ে। জিয়াউর ২০১৮ সালে খেলেছেন বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সে। আবারও প্রো-কাবাডিতে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত তুহিন, ‘আমার আত্মবিশ্বাস ছিল এবারও নিলামে কোনো একটা দলে ডাক পাব। পছন্দের দলই পেয়েছি। আমাদের দলটাও এখন পর্যন্ত বেশ ভালো বলেই মনে হয়েছে। সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।’

গত মৌসুমে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের সিদ্ধার্থ দেশাইকে ১ কোটি ৪৫ লাখ ভারতীয় রুপিতে কিনে নিয়েছে তেলেগু টাইটানস। এবার ১ কোটি ৩০ লাখ চূড়ান্ত দাম ওঠার পর সেই দামে তাঁকে ধরে রাখার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে তেলেগু টাইটাইনস। তবে একটু পরে তাঁকে টপকে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির রেকর্ড গড়েছেন আরেক রেইডার পারদীপ নারওয়াল। ইউপি যোদ্ধা তাঁকে ১ কোটি ৬৫ রুপি দিয়ে আগের রেকর্ড ২০ লাখ রুপির ব্যবধানে ভেঙে দিয়েছে যোদ্ধারা।

মূলত ‘এ’, বি ও ‘সি’—এ তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে বেশির ভাগ খেলোয়াড়কে। তবে একেবারে নতুন খেলোয়াড়দের কোনো ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়নি।

প্রো-কাবাডির নিলাম কমিটি বাংলাদেশের অলরাউন্ডার জাকির হোসেন, ডিফেন্ডার জিয়াউর রহমান, সবুজ মিয়া, তুহিন তরফদার ও মনিরুল ইসলামকে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রেখেছিল। রেইডার আরদুজ্জামান, হাসান আলী ও মাসুদ করিমও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন। জাপান, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়ার সেরা সব খেলোয়াড়ের ভিড়ে যদিও বাংলাদেশিদের খুব বেশি দাম ওঠার সম্ভাবনা থাকে না। খেলোয়াড় কিনতে প্রতিটি দলের বাজেট ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৪ কোটি। এবারের কাবাডি লিগ খেলবে ১২টি দল।

গত মার্চে ঢাকায় হয়েছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক প্রীতি কাবাডি টুর্নামেন্ট। পাঁচ দেশের ওই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে শিরোপা জেতায় বড় ভূমিকা রাখা সব খেলোয়াড়ই মূলত ডাক পেয়েছেন এবারের নিলামে।
প্রো-কাবাডির নিলামে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছাড়া সবাই বিভিন্ন সার্ভিসেস সংস্থায় চাকরি করেন। এর মধ্যে নৌবাহিনীতে আছেন আরদুজ্জামান ও তুহিন তরফদার, বিজিবিতে জাকির হোসেন ও সবুজ মিয়া, পুলিশে মাসুদ করিম, বিমানবাহিনীতে মনিরুল ইসলাম ও সেনাবাহিনীতে মোহাম্মদ হাসান।

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: