দেশে মাছের উৎপাদন ৪৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে: মন্ত্রী

গত অর্থবছরে দেশে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪৫ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম, ইলিশ উৎপাদনে প্রথম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ।

২০২১ সালের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এসব তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার ধীরগতিসম্পন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু বিগত এক দশকে বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ১ শতাংশ ধরে রেখেছে। যাতে বিশ্বের মৎস্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২৮ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্‌যাপন করা হবে। আগামীকাল জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং সংসদ লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। রাষ্ট্রপতি ৩১ আগস্টবঙ্গভবন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে দেশে ইলিশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বাদ-গন্ধ ফিরে এসেছে, পরিমাণ বেড়েছে। জাটকা নিধন বন্ধ করার সুফল আমাদের সামনে এখন দৃশ্যমান। দেশের মানুষের কাছে যে মাছগুলো দুর্লভ ছিল, সেগুলো ফিরে এসেছে। বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি এবং সেটা আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। মৎস্যজাত পণ্য তৈরির খাতকেও সরকার উৎসাহিত করছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, মৎস্য খাদ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার করা হয়েছে। মাছ রপ্তানির জন্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদেশে পাঠানো মাছের চালান দেশে ফেরত না আসে। দেশের অভ্যন্তরের বাজারেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। মৎস্য সম্পদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও মো. তৌফিকুল আরিফ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের উপপরিচালক শেফাউল করিম, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. আতিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: