তিনটি ছোট ফেরি চলায় উভয় ঘাটে গাড়ির জট, ভোগান্তি

বিআইডব্লিউটিসি ঘাট সূত্র জানায়, পদ্মায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেখা দিয়েছে তীব্র স্রোত। এ কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। গত জুলাই ও আগস্ট মাসেই পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে তিনটি রো রো ফেরি ও একটি ছোট ফেরি পদ্মা সেতুর ১৭, ১৬ ও ১০ নম্বর পিলারে চারবার ধাক্কা দেয়। সবশেষ আজ সকালে কাকলি নামে ছোট একটি ফেরি পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এরপর থেকে ফেরির সংখ্যা আরও কমিয়ে সীমিত করা হয় ফেরি চলাচল। বর্তমানে ছোট গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি পারাপারের জন্য তিনটি ছোট ফেরি চালু রয়েছে। নতুন করে এই নৌপথে ফেরি সুফিয়া ও রোকেয়াকে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনো এগুলো চালু হয়নি বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জামিল শিকদার দুপুর ১২টায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে পাঁচটি ফেরি ছাড়া হলে একটি ফেরি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এরপর থেকে ফেরি চলাচল আরও সীমিত করা হয়। বর্তমানে জরুরি সেবা দিতে আমাদের কুঞ্জলতা, ক্যামেলিয়া ও কদম নামে তিনটি ছোট ফেরি চালু আছে। অন্য নৌপথ থেকে সুফিয়া ও রোকেয়া আজ আনা হয়েছে। এগুলো এখনো ঘাটে চালু হয়নি। তবে এই দুটি ফেরি চালু হলে ঘাটের চিত্র কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।’

জামিল শিকদার আরও বলেন, ‘বড় রো রো ফেরিগুলো গতকাল ও পরশু দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলে গেছে। তাই দুই দিন ধরে আমরা টার্মিনালে মাইকিং করে অন্য নৌপথে তাদের যেতে বলেছি। কিছু যানবাহন বিকল্প নৌপথে গেলেও অনেকে এখনো টার্মিনালে পড়ে আছে পারাপারের জন্য।’

এদিকে অন্য নৌপথে বড় রো রো ফেরিগুলো পাঠানো হলেও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে যানবাহনের চাপ কমছে না। উভয় ঘাটে পারাপারের জন্য অপেক্ষায় আছে তিন শতাধিক ছোট যানবাহন। এর মধ্যে অর্ধশত আছে রোগী ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। এ ছাড়া ঘাটের টার্মিনালে আটকা পড়া পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকের চালকেরাও অন্য পথে যাচ্ছেন না। তাঁরা এই নৌপথে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় এখনো রয়েছেন। ফলে ঘাটে এসে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পরিবহনশ্রমিক ও যাত্রীরা।

ভারী যানবাহন বহন না করার ঘোষনা দেওয়ার পরেও ঘাটের টার্মিনালে অপেক্ষা করছে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক। শুক্রবার বেলা ১টায় মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটে

ভারী যানবাহন বহন না করার ঘোষনা দেওয়ার পরেও ঘাটের টার্মিনালে অপেক্ষা করছে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক। শুক্রবার বেলা ১টায় মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটে 

ফেরিঘাটে আটকা থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার গাড়ি ফুল লোড। এত লোড নিয়ে বিকল্প পথে গেলে বিপদ বাড়বে। খরচও বাড়বে তিন গুণ। তা ছাড়া এখানে সাত দিন ধরে অপেক্ষা করছি। দৌলতদিয়া গেলেও কয় দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়, তা কেউ বলতে পারছে না।’

চট্টগ্রামগামী পণ্যবাহী ট্রাকের চালক রোমান খান বলেন, ‘স্রোত কিছুটা স্বাভাবিক হলেই আমাদের গাড়ি ফেরিতে লোড নেওয়ার কথা ঘাট থেকে বলছে। কিন্তু ঘাটে আটকা থেকে আমরা খুব কষ্টে আছি। খাওয়াদাওয়া, ঘুম—সব ট্রাকে করতে হচ্ছে। আয়–রোজগার কিছুই নেই। ঘাটে এলে আমরা বেকার হয়ে যাই।’

জানতে চাইলে বাংলাবাজার ঘাটের দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) জামালউদ্দিন বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। ফেরি একদম চলছে না। যা চলে, তা–ও আসা-যাওয়াতে প্রায় চার ঘণ্টা চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘাটে তো গাড়ির চাপ বাড়বেই। দু-তিনটি ফেরি দিয়ে এই চাপ সামলানো সম্ভব নয়। ট্রাকগুলো আমরা ফেরিতে দিচ্ছি না। ছোট গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স লোড দিয়েই কোনোরকম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছি আমরা।’

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: