গৌরনদীতে পুলিশ ক্যাম্পের কাছে ‘চেকপোস্ট’ বসিয়ে ডাকাতি

বরিশালের গৌরনদীর টরকী বন্দরে ১৩টি দোকানের তালা ভেঙে ডাকাতির ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকা লুট হয়েছে বলে দোকানিরা দাবি করেছেন। এ সময় ডাকাতদের হামলায় পাঁচজন আহত হন।

গতকাল শনিবার মধ্যরাতে টরকী পুলিশ ক্যাম্প থেকে প্রায় দেড় শ গজ দূরে এ ঘটনা ঘটে।

বন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গতকাল দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে মুখোশ পরা অস্ত্রধারীদের প্রায় ৫০ জনের একটি দল টরকী বন্দরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে বড় ব্রিজের ওপর ও টরকী বন্দরের ভেতরে দুটি ‘চেকপোস্ট’ বসায়।

বন্দরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশ প্রতি মাসে লাখ টাকা চাঁদা নেয়, অথচ ব্যবসায়ীদের কোনো সাহায্যে আসে না বলে ক্ষোভ ঝাড়েন ব্যবসায়ীরা।

২০ থেকে ২৫ জন ওই চেকপোস্টে পাহারা দিতে থাকে। দলের অন্যরা বন্দরের ভেতরে ঢুকে রায়পট্টির ছয়টি, মন্দির গলির পাঁচটি ও মধ্যচরের দুটি দোকানের তালা ভেঙে লুটপাট করে। এ সময় ডাকাত দল প্রায় ৪০ জন বাসের যাত্রী, মাছ ব্যবসায়ী ও পথচারীকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মানিক সাহা, শ্যামল মণ্ডল, নিত্য রায়সহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বন্দরের একাধিক নৈশপ্রহরীর ভাষ্য, ডাকাতেরা একাধিক ট্রলার নিয়ে নদীর ঘাটে এসে আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি করে। ডাকাতি হওয়া দোকানগুলোর মধ্যে টিনের আড়ত, পাইকারি মুদি দোকান, তেল ব্যবসায়ীর গদিঘর, বিকাশের দোকান এবং ওষুধের দোকান আছে।

একাধিক দোকানের মালিক ও প্রহরীকে মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে লুটপাট চলে

একাধিক দোকানের মালিক ও প্রহরীকে মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে লুটপাট চলে
ছবি: সংগৃহীত

আমাকে কেউই ডাকাতির খবর জানাননি। ভোররাত চারটার দিকে নৈশপ্রহরী এসে আমাকে জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়েছি।

শাহীন সরদার, উপপরিদর্শক, টরকী পুলিশ ক্যাম্প

সাহা পাইকারি মুদি দোকানের মালিক গোবিন্দ সাহা বলেন, তাঁর ছেলে মানিক সাহা দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত পৌনে তিনটার দিকে ১০ থেকে ১২ জন ডাকাত দোকানের শাটার ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর তাঁর ছেলেকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১২ লাখ টাকাসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, টরকী পুলিশ ক্যাম্প থেকে ঘটনাস্থলে আসতে দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগে। কিন্তু ডাকাতির খবর টরকী পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন সরদারকে জানানো হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। বন্দরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশ প্রতি মাসে লাখ টাকা চাঁদা নেয়, অথচ ব্যবসায়ীদের কোনো সাহায্যে আসে না।

তবে এসআই শাহীন সরদার বলেন, ‘আমাকে কেউই ডাকাতির খবর জানাননি। ভোররাত চারটার দিকে নৈশপ্রহরী এসে আমাকে জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আর মাসিক চাঁদা দেওয়ার অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা।’

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে। খুব শিগগির রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: