অল্প মূল্য সংশোধনে পতনের শীর্ষে জেড কোম্পানির শেয়ার

দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধন চলছে। গত তিন দিন সূচক কমেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। বাজারে তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একটানা বড় উত্থানের পর তবে কি মূল্য সংশোধন শুরু হয়েছে? এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর না মিললেও বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষই চায় কিছুটা মূল্য সংশোধন হোক।

প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত তিন দিনে ৬০ পয়েন্ট কমেছে। আর লেনদেন কমেছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হয় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়। কিন্তু সেই উত্থান বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

সূচকের সামান্য সংশোধনে সবচেয়ে বেশি কমতে শুরু করেছে দুর্বল মানের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম। উত্থানপর্বে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। যেভাবে দাম বেড়েছিল মূল্য সংশোধন শুরু হওয়ায় তার চেয়ে বেশি গতিতে দাম কমতে শুরু করেছে এসব কোম্পানির শেয়ারের। ডিএসইতে গতকাল দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৬টিই ছিল দুর্বল মানের ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি। এর বাইরে গতকাল দরপতনের শীর্ষে ছিল নতুন তালিকাভুক্ত সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। গত দুই দিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে। এর আগে টানা সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির ফলে ১০ কার্যদিবসে কোম্পানির ১০ টাকার শেয়ারের দাম ওঠে সাড়ে ২৫ টাকায়। গতকাল তা ১০ শতাংশ কমে নেমে এসেছে এসেছে ২২ টাকা ৪০ পয়সায়।এদিকে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই চায় কিছুটা মূল্য সংশোধন হোক বাজারে। তাদের মতে, সেটি বাজারের জন্যই ভালো। যেভাবে সূচক একটানা কয়েক হাজার পয়েন্ট বেড়েছে, তাতে শেয়ারের কিছুটা মূল্য সংশোধন দরকার। কারণ, একটানা মূল্যবৃদ্ধি কখনো সুস্থ বাজারের লক্ষণ হতে পারে না। শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূল্য সংশোধন না হওয়ায় কারণে অযৌক্তিকভাবে কিছু শেয়ারের দাম ৫ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কারসাজির মাধ্যমেই এ ঘটনা ঘটেছে। আর তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। মূল্য সংশোধন না হলে এসব শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে।

ঢাকার বাজারে গতকাল জেড শ্রেণির যেসব শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে তার মধ্যে রয়েছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ইমাম বাটন, মিথুন নিটিং, শ্যামপুর সুগার ও মেঘনা পিইটি।

Source: Prothomalo
%d bloggers like this: