পটুয়াখালীতে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর থেকে পটুয়াখালীতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস বইছে। গত ৩৩ ঘণ্টায় ২৮৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পটুয়াখালী আবহাওয়া কার্যালয়, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু গাছ উপড়ে পড়েছে। গাছ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন ঘটছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগর থেকে অনেক ট্রলার এসে উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৩ ঘণ্টায় ২৮৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এতে নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে উপকূলীয় জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মোন্তাজ, চর আন্ডা, চালিতাবুনিয়া সংস্কারহীন বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে ফসলি খেত। পানির প্রবল চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধ।

পটুয়াখালীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হালিম সালেহী প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণিমার প্রভাবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে অবিরাম বর্ষণ হচ্ছে। পানির স্রোতে সদর উপজেলার ইটবাড়ীয়ায় পায়রা নদীর পাড়ে বাঁধের ২০ মিটার ও মির্জাগঞ্জের বেগমপুর এলাকায় তিনটি পয়েন্টে ৩৮ মিটার বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পটুয়াখালীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, অতিবৃষ্টিতে নদীর জোয়ারের প্লাবনে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আউশের তেমন ক্ষতি না হলেও আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ হয়েছে ৩ হাজার হেক্টর ও আমন বীজতলা ১৪ হাজার ৯৮০ হেক্টর। এখনো বৃষ্টি হচ্ছে এবং জেলার নিম্নাঞ্চলের খেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এভাবে কয়েক দিন জলাবদ্ধতা থাকলে ফসলের ক্ষতির হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাছ ধরার ট্রলারগুলো সাগরে টিকতে না পেরে উপকূলের মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসছে।

মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে বলে জানান মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলু গাজী।

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: