নাটোরের সিংড়ায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

নাটোর প্রতিনিধি : প্রাইভেট পড়ানোকে কেন্দ্র করে নাটোরের সিংড়া উপজেলার জয়নগর তাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে বেধরক মারপিটের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষকসহ অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে অত্র প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। বুধবার সকাল ১১ টায় উপজেলার জয়নগর তাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দুই ঘন্টা ব্যাপি এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শিার্থীদের বেত্রাঘাত ও মারটিপ করা নিষিদ্ধ থাকা সত্বেও তা উপো করে স্কুলছাত্র রাজু আহমেদকে মারপিট করায় এলাকার প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচার দাবি করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ বিনা কারণে প্রায়ই ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়। তারা এর সুষ্ঠ ব িচার দাবি করেন।
স্থানীয়ও সূত্রে জানা যায়, ওই স্কুলের সাবেক এক বিএসসি শিক্ষকের কাছে পাইভেট পড়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে দশম শ্রেণির ছাত্র রাজু আহমেদ এর কথা কাটাকাটি হয় অত্র প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী মোস্তফা সিদ্দিকের সাথে। পরে এর জের ধরে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোহসিন আলী এবং প্যাটান বহির্ভূত শিক্ষক গুপেন্দ্রনাথ সাহা ছাত্র রাজু আহমেদকে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পর, পা দিয়ে লাথি ও এক পর্যায়ে বেত্রাঘাত দিয়ে আঘাত শুরু করেন । পরে এলাকাবাসি ও ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এদিকে মঙ্গলবার ওই তিন শিককে স্কুলের ভেতর প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় মাতবরদের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হলেও বুধবার সকাল থেকে প্রধান শিক্ষক মোহসিন আলী ও সহকারী শিক্ষক গুপেন্দ্রনাথ সাহা এবং অফিস সহকারী মোস্তফা সিদ্দিকের অপসারণ দাবিতে অত্র প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সরোজমিনে বুধবার সকাল ১১টায় গিয়ে দেখা যায়, অত্র প্রতিষ্ঠানের সামনে অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছে শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আর স্কুলের প্রধান ফটকও তালাবদ্ধ রয়েছে। অবশ্য পরে সাংবাদিকদের দেখে ফটকের ছোট গেটের তালা খুলে দেয়া হয়। আর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীকে স্কুলে পাওয়া যায়নি। আর তারা ছুটিতে আছেন কিনা এই বিষয়ে স্কুলের কোন শিক্ষকই জানেন না। তবে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খবির উদ্দিন সরদার বলেন, স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে তিনি চর থাপ্পর দেয়ার কথা শুনেছেন। তাই তিনি স্কুলে এসেছেন।
অত্র প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী উর্মি খাতুন, সাব্বির হোসেন ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির সোনালী খাতুন, সুবর্ণা, আশা খাতুন, পুজা রাণীসহ বিক্ষোভকারী শত শত শিক্ষার্থরা বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানে কোন বিএসসি শিক্ষক না থাকায় ওই বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত এক বিএসসি শিক্ষকের কাছে তারা পাইভেট পড়েন। স্কুলের বহিরাগত শিক্ষকের কাছে পাইভেট পড়ার কারণে প্রায় তাদেরকে বিনা কারণে হুমকি ও মারপিট করা হয়। তারা অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন।
আহত ছাত্রের পিতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্কুলের বাহিরের শিক্ষকের কাছে পাইভেট পড়ার কারণে গত ১মাস ধরে ওই তিন শিক্ষক ছাত্রদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলো। স্কুলের শিক্ষকের কাছে পাইভেট না পড়লে পরিক্ষার খাতার নম্বর কেটে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। আর বিনা কারণে তার ছেলেকে বেধরক মারপিট করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রধান শিক মোহসিন আলী মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কাসে ফোন ব্যবহার করার কারণে ছাত্র রাজু আহমেদকে শুধু তিন-চারটি চর-থাপ্পর দেয়া হয়েছে। পড়া-শোনার ব্যাপারে কোন মারধর করা হয়নি।
সিংড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুর রহমান বলেন, তিনি গতকাল এক শিক্ষার্থীকে মারপিটের ঘটনা শুনেছেন। স্থানীয় ভাবে আজ (বুধবার) সেটি মিমাংসার কথা রয়েছে। এরপর আর তিনি কিছুই জানেন না।
সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ থানায় আসেনি।