গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষকের প্রতারণায় শিকার অর্ধশতাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থী, পরীক্ষা দিতে না পেয়ে সড়ক অবরোধ

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা ঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রতারণাসহ স্কুল কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক গাফিলতির কারণে অর্ধশতাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। এদিকে সকাল ৯টায় দিকে পরীক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবক সাথে নিয়ে গফরগাঁও সরকারী কলেজ ও ইসলামিয়া সরকারি হাইস্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসে স্কুল প্রধান শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রবেশপত্র না পাওয়া পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে পরীক্ষার্থীরা জানান। প্রধান শিক্ষকের বিচারসহ এরই প্রতিবাদে সকাল ১০টায় দিকে পরীক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকসহ সরকারি কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে ঘন্টাব্যাপি সড়কে অবস্থান নেয়। ফলে সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. শামীম রহমান ও ওসি আব্দুল আহাদ খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের বিচারের আশ^াস দিয়ে পরীক্ষাথীদের শান্ত করেন। পরীক্ষার্থীরা পরে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়ে গফরগাঁও থানা ঘেরাও করেন এবং রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে হামলা চালায়। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ তার বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করান। ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উথুরী নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬জন সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৫৩জন এসএসসি পরীক্ষাথী প্রবেশপত্র পায়নি। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেয়ে পাগলপ্রায় শিক্ষার্থী শামছুন্নাহার, জান্নাত, মিম, স্বর্ণা, ঝুমুর ও সজীব জানায়, উথুরী নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিাকা ইয়াসমিন সুলতানা পপির মাধ্যমে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করি। ফরম পূরণের জন্য প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৫০০ টাকা করে নেন। কিন্তু আমরা কেউ প্রবেশপত্র পাইনি। কোনো শিক্ষককেও খুঁজে পাচ্ছিনা। শিক্ষকের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এখন পরীক্ষাও দিতে পারিনি। এব্যাপারে ইউএনও বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের আশ^াস দেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ বেলায়েত হোসেন জানায়, প্রতি বছরই প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ শিক্ষার্থীদের সাথে এই অপকর্মটি করে আসছেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ ও প্রধান শিক্ষিাকা ইয়াসমিন সুলতানা পপির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. শামীম রহমান জানায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে এ ঘটনায় বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান জানায়, এ ঘটনায় একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বীরমুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।