তীব্র খরায় পুড়ছে ফসলের মাঠ, দিশেহারা কৃষক

আষাঢ় মাস বিদায় নিয়ে শ্রাবণ শুরু হলেও ঠাকুরগাঁওয়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। চরম দাবদাহে ও অনাবৃষ্টির ফলে সংকটে পড়েছে কৃষকরা। তীব্র গরমে পুড়ছে জনপদ, মাঠ-ঘাট ও শষ্যের ক্ষেত। সর্বত্র গরম আর গরম, কখনও প্রচণ্ড, আবার কখনও ভ্যাপসা গরম। প্রচণ্ড খড়ার কারণে জমির ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে আমন চাষ মূলত বৃষ্টিনির্ভর। সরকারি হিসেবেই আমন চাষের প্রায় ৫০শতাংশ জমিতে সেচের ব্যবস্থা নেই। যেখানে সেচের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানকার চাষিরাও বাড়তি খরচ নিয়ে চিন্তায় পড়েছে।

রবিবার (১৭জুলাই) সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানির অভাবে কৃষক জমিতে চাষ করতে পারছে না। রোপা আমন নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকরা। উঁচু জমিগুলো শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাটি ফেটে গেছে। অবস্থাসম্পন্ন কৃষকরা জমিতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে সেচ দিতে পারলেও অধিকাংশ দরিদ্র কৃষক তাকিয়ে আছে আসমান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির জন্য। এদিকে চারা রোপণের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।

 

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৫১ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়। উৎপাদন হয় এক লাখ ৫৯ হাজার ৬১০ টন। প্রতি বছর জুলাই মাসে গড়ে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। এ বছর এখন পর্যন্ত বড়জোর ১৭০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানির সমস্যায় অনেকেই পাট কেটে আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারছে না। এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশ জমিতে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। দ্রুত ভারী বৃষ্টিপাত না হলে সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান কৃষি অফিস।

মুনসুর আলী, হামিদ, নাজমুল, রুবেল রাসেলসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় খরায় মাঠ পুরে চৌচির হয়েছে। আমনের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু বৃষ্টি না থাকায় এখন চারাগাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। শিগগিরই বৃষ্টি না হলে পথে বসতে হবে বলে জানান কৃষকরা।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, দীর্ঘ খরার কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। কৃষকরা মাঠে হাল চাষ করতে পারছে না। বৃষ্টির কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থায় আমন চারা লাগাতে বিলম্বিত হচ্ছে। বৃষ্টি হতে দেরি হলে সেচ দিয়ে জমি তৈরি করে আমনের চারা রোপণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

%d bloggers like this: