সরকার চোরাবালিতে পড়েছে : নজরুল

নিউজ ডেস্ক : উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে সরকার ‘চোরাবালির গভীরে চলে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) এর সভায় নজরুল ইসলাম খান এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এই সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই সরকার এখন চোরাবালিতে পড়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া জনগণ পছন্দ করেনি, তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া জনগণ আরও অপছন্দ করেছে। একজন নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়া হলো না, তিনদিন তাকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হলো- জনগণ পছন্দ করে নাই।’ নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সরকার এই চোরাবালিতে আরও কিছুটা নিচে নেমেছে। এখন তাই জামিনে বাধা দিয়ে তাকে জেলে থাকতে বাধ্য করে তারা (সরকার) চোরাবালির আরও গভীরে গেছে।’ বিএনপি নেতা নজরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে নথি লাগতাছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন আদালত কী মনে করেন এটা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নাই। তারা যেটা ভালো মনে করেন, বলবেন আর কী। তবে নতি পাঠানোর জন্য আবার ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন। এই ১৫দিনের মধ্যে নথি নিশ্চয় আসবে। ১৫দিনের মধ্যে মানে কিন্তু ১৫দিন না। কালকেও হতে পারে।’ ‘তারপরও আমরা আশা করবো, যত দ্রুত সেই নথি তাদের (নিম্ন আদালত) পাঠানোর কথা তারা পাঠাবেন। তার ভিত্তিতে আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দেবেন এবং তিনি আমাদের মাঝে থাকবেন এবং তার নির্দেশে দল চলবে।’ প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করছেন কে? অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি আওয়ামী লীগের আইনজীবী নন, তিনি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তার বেতন হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যিনি আইনজীবী তিনিও আওয়ামী লীগের আইনজীবী নন, দুদুক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, তার বেতনও জনগনের টাকায় হয়।’ ‘হাসিনার বিরুদ্ধে তো ১৫টি মামলা ছিলো যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। তার ছয়টা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব কোনো বিরোধিতা তো করেন নাই। তার (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৯টা মামলা ছিলো। এই ৯টার মধ্যে সম্ভবত ২০১০ সালে তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টের দুইটা বেঞ্চে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কোথায় ছিলেন তখন অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব, কোথায় ছিলেন দুদকের আইনজীবী সাহেবেরা? বিরোধিতা তো করেননি’-বলেন নজরুল ইসলাম খান। বিচারপতি শামসুল হুদা ও বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের পৃথক দুইটি বেঞ্চে শেখ হাসিনার নয়টি মামলা খারিজের কথা তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ওই সময়ে হাইকোর্টের একটা বেঞ্চের প্রধান ছিলেন বিচারপতি শামসুল হুদা। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তাকে নিয়োগ দিয়েছেন বিচারপতি হিসেবে। তিনি ছিলেন গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি। তার কোর্টে পাঁচটা মামলা খারিজ করে দেওয়া হলো। সরকারের ‘ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের’ বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশবাসী অনেক সচেতন। আমি বিশ্বাস করি, যদি তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে দুর্নীতি ও অনাচার-নির্যাতন-জুলুমের বিরুদ্ধে রায় দেবে।’ সংগঠনের সভাপতি জাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য দেন।