ইন্টারনেটের মান বাড়াবে ফোর-জি

নিউজ ডেস্ক : চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর–জি) প্রযুক্তি চালু হলে দেশে টেলিযোগাযোগ সেবার মান বাড়বে। গ্রাহকেরা আগের চেয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাবেন। পাশাপাশি উঁচু ভবনে, ঘরের কোনায়, পার্কিংয়ের মতো জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ভালোভাবে পাওয়া যাবে। কারণ, যেকোনো বেতার তরঙ্গ দিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটররা এখন ফোর–জি ও অন্যান্য টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে পারবে।

ফোর–জি সেবা চালু হলে কী হবে, এর উত্তরে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এমন তথ্যই জানিয়েছেন। এত দিন মোবাইল ফোন অপারেটররা তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি–জি) সেবা দিত একটি ব্যান্ডের তরঙ্গ দিয়ে। এই তরঙ্গ দেয়াল ভেদ করে সমভাবে একটি ভবনের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারত না। এখন একাধিক তরঙ্গ ব্যবহার করে ফোর–জি সেবা দেওয়া হবে, যা ভবনের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। একাধিক তরঙ্গ ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা (টেকনোলজি নিউট্রালিটি) পাচ্ছে অপারেটররা। প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা হলো যেকোনো তরঙ্গে যেকোনো প্রযুক্তির সেবা দেওয়ার সুবিধা।

যথেষ্ট পরিমাণ বেতার তরঙ্গ নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটররা যাতে ফোর–জি সেবা দিতে পারে, এ জন্য গতকাল মঙ্গলবার তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ নিলামের মাধ্যমে ৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার তরঙ্গ বিক্রি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি। ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করসহ (মূসক) এ তরঙ্গের দাম ৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা থেকেও বিটিআরসির আয় হয়েছে আরও ১ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ নিলাম ও প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা সব মিলিয়ে বিটিআরসির আয় দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।

মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক গতকালের তরঙ্গ নিলামে অংশ নেয়। এর মধ্যে বাংলালিংক কিনেছে ১০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ ও গ্রামীণফোন কিনেছে ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। সব মিলিয়ে গতকালের নিলামে ১৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে এ নিলাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনটি ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের কোনো তরঙ্গ বিক্রি হয়নি। ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে বাংলালিংক ৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ ও গ্রামীণফোন ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনে নেয়। ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে শুধু ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনে বাংলালিংক। মূসক ছাড়া বাংলালিংকের কেনা তরঙ্গের দাম ২ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। আর গ্রামীণফোনের তরঙ্গের দাম ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। ফোর–জির জন্য যথেষ্ট তরঙ্গ হাতে থাকায় রবি আজিয়াটা ও টেলিটক এ নিলামে অংশ নেয়নি।

নিলাম শেষে দেওয়া বক্তব্যে উন্নত মানের মোবাইল সেবা নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা চায়। গুণগত মানহীন সেবা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মোবাইলে কথা বলার সময় কল কেটে যাওয়াসহ নানা বিড়ম্বনার সমালোচনা করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, গ্রাহকের তুলনায় অপর্যাপ্ত নেটওয়ার্কের কারণে এ সংকট। ফোর–জি নেটওয়ার্ক চালুর মধ্য দিয়ে সে বিড়ম্বনা কমবে, এমন আশা করা যায়। কারণ, অপারেটরদের চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা ও তরঙ্গ দেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, নতুন তরঙ্গ কেনার পরে মোবাইল ফোন অপারেটররা আধুনিক ও দ্রুতগতির ফোর-জি সেবা দিতে পারবে। বিক্রি হওয়া তরঙ্গ মানসম্পন্ন সেবা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, অপারেটরদের আরও তরঙ্গ কেনা উচিত। যে দামে আজ (গতকাল) তরঙ্গ বিক্রি হয়েছে, সেই দামে আগামী ৬ মাস পর্যন্ত তরঙ্গ কেনার সুযোগ থাকবে।