কিশোরগঞ্জের সালাম হত্যার পরিবারের কান্না আজও থামেনি

স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের সালাম হত্যার পরিবারের কান্না আজও থামেনি। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ নয়াপাড়া গ্রামে সালিসে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় আব্দুস সালামকে। প্রায় এক মাস আগের এই হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ একজন আসামীকে গ্রেফতার করলেও মূলহোতাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ সুযোগে আসামি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মামলার বাদীকে। জানা গেছে নিহত আব্দুস সালামের জয়গাজমি দখল করে রেখেছিলেন তারই চাচা আব্দুল আহাদ ওরফে মঞ্জু ভুইয়া ও তার আত্মীয়স্বজনরা।

এ নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর এলাকায় সালিস বসে। সালিসে সালামের পক্ষে রায় দেন গণ্যমান্যরা। ঠিক তখনই কতক মানুষের সামনে চাচার নির্দেশে চাচাতো ভাইয়েরা হামলা চালিয়ে হত্যা করে সালামকে। ভাঙচুর করে বাড়িঘর। প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হত্যাকা- দেখে হতবাক হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। ক্ষোভে ফেঁসে ওঠে স্থানীয়রা।

ছেলের হত্যাকারীরা পালিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হতে পারেননি মা আজেদা বানু। ছেলের কবরে গিয়ে বিলাপ করেন। পাগলেরর মতো এখানে সেখানে ছুটে গিয়ে তাঁর ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার আবদার করেন। কোনো সান্ত¡নাতেই প্রবোদ মানছেন না তিনি। আব্দুস সালাম পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। তিনি রাজধানী ঢাকায় কাজ করতেন। সলিসের দিনে বাড়ি গিয়েছিলেন। তার চার বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া জানে না তার বাবার কি হয়েছে। বাবার ছবি হাতে নিয়ে মায়ের কাছে জানতে চায় তার বাবা কোথায়। কিন্তু মেয়ের প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনা মা শিখা আক্তার। অকালে বিধবা এই নারী সামনের অনিশ্চিত জীবনের কথা ভেবে নীরবে চোখের জল ফেলেন। তিনি তার স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। সালামেরা দুইভাই ও তিনবোন। তবে সালামের আয় রোজগারই পরিবারটির প্রধান অবলম্বন ছিল। সেই লোকটিই আত্মীয়স্বজনের হাতে নিহত হওয়ায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে পরিবারটির। তারা বলছেন, ঘটনার পর হত্যাকারীরা পালিয়ে গেলেও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় ঘটনার ২১ দিন পর পুলিশ কিশোরগঞ্জের পার্শবর্তী নান্দাইলের ডাকিয়াপাড়া হতে মামলার ১ নাম্বার আসামী আঃ আহাদ ওরফে মঞ্জু ভুইয়াকে গ্রেফতার করে।

পরে তার ভাই আবদুস শাহেদ ভূইয়া (৫৫), রতন ভূইয়া (৫২), আবদুল মোতালিব (২৮) ছেলে জুয়েল ভূইয়া (৩০) ও মাজেদা (৩৫) কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। বর্তমানে তারা জেল হাজতবাসে রয়েছেন। তবে এখনও পুলিশ ঘটনার মূল হোতা রাসেল (২৫)কে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর সাতজনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী আবুল কালাম বলেন, পলাতক আসামী রাসেল আমাকে এখনও হুমকি দিচ্ছে। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ মামলায় পুলিশের তরফ থেকে কোনো গাফিলতি নেই। মামলার ১ নাম্বার আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামীকেও গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।