পাকুন্দিয়ার অদম্য মোবারকের গল্প

স্টাফ রিপোর্টার

আমরা সাধারনত অল্পতেই হতাশ হয়ে যাই। তরুণ প্রজন্ম যেনো এই হতাশা নামক ব্যাধীর মূল শিকার। তবে সবাই এই হতাশার শিকার হয়ে চুপচাপ বসে থাকে না। কেউ কেউ অদম্য সাহস নিয়ে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে চলে সবধরণের বাধা বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে। একজনের জীবনের যত কালো অতীত কিংবা খুতই থাক না কেনো, এভাবে যারা চলতে থাকে তারা সফলতার দ্বারে পৌছুবেই।

গল্পটি হার মানতে না-চাওয়া একজনের। যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অন্যের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে চান না, কাজ করে জীবন অতিবাহিত করতে চান। মো. মোবারক (২৬)। পিতা আঃ কাদির, মাতা মমতা আক্তার। প্রবল ইচ্ছা কোনো কাজে নিজেকে জড়িয়ে জীবনের দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেন তিনি। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার স্বপ্ন পূরণে।

২০০৭ সালে শশুরবাড়ি থেকে আসার সময় সুখিয়া নামকস্থানে সড়ক দূর্ঘঠনায় তার একটি পা হারায়। সেই থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। এ যেন এক তরুণের পূরণ না-হওয়া কোনো স্বপ্ন। অথচ তার আশপাশে কত শত তরুণ চলছে ফিরছে নিজের পায়ে।

মোবরকের জন্য এটি একটি দীর্ঘশ্বাস! মোবারক জানেন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা তার দ্বারা আর কখনো হবে না। তাই সেই স্বপ্ন তিনি আর দেখেন না। তবে মাঝে মাঝে মনের কোণে কষ্টের চোরা স্রোত বয়ে চলে। পাকুন্দিয়া পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে তার বসবাস। পাকুন্দিয়া পৌরসভার সদর বাজারে অন্যের সবজির দোকানে কাজ করেন।

অতচ তার অধীনে একটি দোকান হলে তার জন্য ভালো হয়। কিন্তু দোকান পাওয়া তার জন্য যেন সোনার হরিণ! তাই বলে বসে নেই ।

তিনি বলেন, ‘আমি পাকুন্দিয়া পৌর সদরে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা। বর্তমানে অন্যের সবজি দোকানে কাজ করে পরিবারের ৬ সদস্য কে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনযাপন করছি। আমি কারো করুণা চাই না, চাই একটু সহযোগিতা। যেন ডাল-ভাত খেয়ে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি। আমি উচ্চাভিলাষী কোনো স্বপ্ন দেখি না। কারণ আমাদের স্বপ্ন দেখতে নেই। মোবারক আরো বলেন, ‘চেয়েছিলাম পাকুন্দিয়া পৌর সদর বাজারে অধীনে ছোট একটা দোকানের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু তা আর হলো কই? দরিদ্রতা ও এক পা ব্যাবাহার কারে চলাফেরা করা শারীরিক প্রতিবন্ধীর জীবন কত কষ্টের তা একমাত্র আমি জানি।

সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে একটাই অনুরোধ, আমরাও মানুষ। সবার মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি না, কিন্তু আমাদেরও আত্মসম্মান আছে। মোবারক বলেন ভিক্ষা নয় কাজ করে বাঁচতে চাই।কারো করুণা নিয়ে বাঁচতে চাই না। যদি সরকারি বা বেসরকারি কোন আর্থিক সহযোগীতা পেলে আমি আমার পরিবার নিয়ে জীবন যাপন করতে পারতাম।