কটিয়াদীতে ট্রান্সফরমার ফেরত দিতে গিয়ে প্রাণ হারালো স্কুল ছাত্র

কটিয়াদী প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিকল হয়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ অফিসে ফেরত দিতে গিয়ে ফারুক মিয়া (১৪) নামে এক স্কুল ছাত্র প্রাণ হারিয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩ জন । ফারুক মিয়া উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের মস্তোফা মিয়ার ছেলে ও আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশানের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। আহতরা হচ্ছেন রনি (১৮), জজ মিয়া (২৬) ও সায়েম (১২)। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকালে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের চারিপাড়া হ্যাচারী সংলগ্ন স্থানে।
প্রত্যেক্ষদর্শিগণ জানান চারিপাড়া এলাকায় নষ্ট হয়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার পাল্টানোর সময় বিদ্যুৎ অফিসের লোক জন। তাদের কর্তব্য কাজে অবহেলা করে গ্রাহকদেরকে নষ্ট ট্রান্সফরমারটি কটিয়াদী বিদ্যুৎ অফিসে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাধ্য করে। দুইজন শিশুসহ ৪ জন ট্রান্সফরমারটি অফিসে জমা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে চারিপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকসাকে সাইড দিতে গিয়ে পাশে অবস্থান করা ট্রাকের সাথে আটকে যেতে পারে দেখে টমটমটি ব্রেক করার সাথে সাথে টমটমে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই ছিটকে রাস্তার উপর পড়ে যায়। এ সময় দ্রুতগতির একটি সিএনজি অটোরিক্সা রাস্তায় পড়ে যাওয়া স্কুল ছাত্র ফারুক মিয়ার উপর দিয়ে চলে গেলে মাথা থেতলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহতদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। বিদ্যুত অফিসের স্টাফদের কর্তব্য কাজে অবহেলা ও ট্রান্সফরমার আনা নেওয়ার দায়িত্ব কার এ বিষয়ে কটিয়াদী পল্লী বিদ্যুতে ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফ জানান বিদ্যুতের সকল মালামাল বহন করার দায়িত্ব আমাদের অনেক সময় গ্রাহকগণ তাদের কাজ দ্রুত গতিতে করার জন্য নিজেরাই আনা নেওয়া করে থাকেন। স্কুল ছাত্র ফারুকের মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত হয়েছি। কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের এসআই আখতারুজ্জামান জানান, ঘটনার পর টমটম এবং সিএনজি অটোরিক্সা দ্রুত পালিয়ে যায়। কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।