কিশোরগঞ্জে করোনা উপস্বর্গ নিয়ে ১৭ ব্যক্তির দাফন কাফন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক টিম

আমিনুল হক সাদী
করোনাভাইরাসের কারণে ক্রান্তিকাল পার করছে বাংলাদেশ। নানা ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে দেশে। বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার পরিমাণ কম হওয়ায় এই সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। অসচেতনতার কারণে করোনা আতঙ্কে মা-বাবাকে পর্যন্ত ফেলে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাটে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে বা তার উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে আপনজনরা লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। দেশের এই সংকটকালে এগিয়ে এসেছেন একদল আলেম—যাঁরা করোনা সংকটের শুরুর সময় থেকে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে আসছেন এবং ধর্মীয় বিধি ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনায় আক্রান্তদের লাশ দাফন ও সত্কারে সাহসী ভূমিকা পালন করছেন। আলেমসমাজের এ উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে সর্বমহলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাঁদের এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
কিশোরগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গঠিত দাফন কাফনের জন্য আলেমসহ ১৪০ জন ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম জেলায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি উপজেলায় ১০ জন করে গঠিত এ টিমের প্রত্যেককে সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফারুক আহামেদ জানিয়েছেন, জেলায় করোনা উপস্বর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৭ জন ব্যক্তির দাফন কাফন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিম। এর মধ্যে হোসেনপুরে ৩,তাড়াইলে ২, করিমগঞ্জে২, মিঠামইনে১,
পাকুন্দিয়া ১, নিকলিতে ১, বাজিতপুরে ৫, কুলিয়ারচরে১, ভৈরবে ১জন সহ সর্বমোট ১৭ জন মারা যাওয়া ব্যক্তিকে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক দাফন কাফন করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এছাড়াও করোনায় মৃতদের কাফন-দাফন ও সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে ‘আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ.) ফাউন্ডেশন’। এ যাবত সংগঠনটি করোনা উপস্বর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুজনের দাফন কাফন সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।  এ কাজে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি গাড়িও দেওয়া হয়েছে সংগঠনটিকে।
 কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, করোনা উপস্বর্গ  নিয়ে মারা যাওয়া আর করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক বিষয় নহে। দেখা গেছে পরবর্তীতে করোনা উপস্বর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির রিপোর্টে নেগেটিভ এসেছে কিন্ত দাফন কাফন ঠিকই সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক হয়েছে। আর এভাবেই করোনা উপস্বর্গ ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদেরকে  ইসলামিক ফাউন্ডেশনের টিম দাফন কাফন করে যাচ্ছে। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৮ জন ব্যক্তি মারা গেছে। তাদের দাফন কাফনও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিম সম্পন্ন করেছে।