কিশোরগঞ্জের মাস্টার্স পড়ুয়া প্রতিবন্ধী আনিছ প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাত করতে চান

আমিনুল হক সাদী

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজে মাস্টার্স পড়ুয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী আনিছ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষাত চান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে গত ২৫ মার্চ একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন আনিছ। কিন্ত দেশের করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটা সম্ভব হচেছ না বলে জানিয়েছে আনিছ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, জেলা সদরের রশিদাবাদের শ্রীমন্তপুরের বাসিন্দা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সিদ্দিক হোসাইন সংসার চালাতেন। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আর ঝালমুড়িও বিক্রি করতে পারেন না। ফলে সংসারেও যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় তার প্রতিবন্ধী সন্তান আনিছুর রহমান ও তার প্রতিবন্ধী কন্যা মোছা: আমেনা খাতুনের লালন পালনেও বেগ পেতে হচ্ছে।
আনিছুর রহমান বলেন, অন্যের উপর নির্ভর নয় বরং শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে জয় করতে চায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। দুপায়ে হেঁটে চলার ক্ষমতা না থাকার শর্তেও গরীব অসহায় বাবা মা ও বন্ধুদের সহায়তায় হুইলচেয়ারে চড়ে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৪৪ পেয়ে এসএসসি তে উত্তীর্ণ হই। এরপর ২০১৩ সালে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে ৩.৯০ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছি। ২০১৭ সাল একই কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে ৩.১৯ পেয়ে অনার্সে উত্তীর্ণ হই। বর্তমানে দর্শন বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত রয়েছি। সমাজসেবা থেকে কম্পিউটার কোর্সও সম্পন্ন করেছি। অনেক চেষ্টা করেও একটা চাকরির সুযোগ পাচ্ছিনা। আমার পরিবার কে বাঁচাতে একটা চাকরি আমার খুবই প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ইদানিং লক্ষ্য করছি গরীব অসহায় মানুষের পাশে সাহায্যের দূত হয়ে দাঁড়িয়েছে, সুতরাং আমাকে অন্তত প্রতিবন্ধী কোটায় হলেও একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আনিছের ছোট বোন শারীরিক প্রতিবন্ধী আমেনা খাতুন বলেন, পরিবারের কঠিন পরিস্থিতিতে এবং নিজের অসুস্থতার ভেতরেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে আমি কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত রয়েছি।

রশিদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস মিয়া জানান,আনিছ শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে। যা একটি বিরল দৃষ্টান্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী আনিছের একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে আমি আমার ইউনিয়ন বাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞ থাকবো।

কিশোরগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: কামরুজ্জামান খান বলেন, প্রতিবন্দী আনিছ ও তার বোন আমেনা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। তাদের জন্য সমাজসেবা বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

Daily Amar bangladesh

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries