কিশোরগঞ্জে একদিনে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ২৪, দুইদিনের নমুনা পেন্ডিং

কিশোরগঞ্জ জেলায় সর্বশেষ পাওয়া নমুনা পরীক্ষা রিপোর্টে নতুন করে ২৪ জনের করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ পজেটিভ ধরা পড়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) পাঠানো ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট বুধবার (২২ এপ্রিল) পাওয়া যায়। এতে এই ২৪ জনের করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ পজেটিভ ধরা পড়েছে।

ফলে এই ভাইরাসে কিশোরগঞ্জ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এখন ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।  এর মধ্যে এক শিশুসহ তিনজন মারা যাওয়া ব্যক্তি রয়েছে। তিনজনেরই মারা যাওয়ার পর নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজেটিভ ধরা পড়ে।

মারা যাওয়া তিনজন হলো, করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি মুসলিমপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়া (৪৬), কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড়বাজার টেনু সাহার গলি এলাকার নিতাই (৬০) এবং হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিন পানান গ্রামের ১০ বছর বয়সী শিশু মিজান।

তাদের মধ্যে গত ৬ এপ্রিল ভোররাতে করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি মুসলিমপাড়া গ্রামে ঢাকাফেরত ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া মারা যায়। গত ১৭ এপ্রিল সকালে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভবঘুরে নিতাই মারা যায়।

এছাড়া একই দিন অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল সকালে হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিন পানান গ্রামের বাড়িতে শিশু মিজানের মৃত্যু হয়।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে রোববার (১৮ এপ্রিল) সকালে ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

তাদের মধ্যে ২৪ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এবং বাকি ৭৭ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এই ২৪ জনের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ১৩ জন মহিলা।

নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ২৪ জনের মধ্যে বাজিতপুর উপজেলায় ৪ জন, ভৈরব উপজেলায় ৬ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৩ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৩ জন, নিকলী উপজেলায় ৪ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১ জন ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩ জন রয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ জন, হোসেনপুর উপজেলার ৩ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ১৬ জন, তাড়াইল উপজেলায় ২১ জন, পাকুন্দিয়ায় উপজেলায় ৩ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ১১ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৬ জন, ভৈরব উপজেলায় ৩৫ জন, নিকলী উপজেলায় ১ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ২ জন, ইটনা উপজেলায় ১১ জন, মিঠামইন উপজেলায় ১৯ জন ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

নতুন করে ২৪ জন সনাক্ত হওয়ার পর এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১৩ জন, হোসেনপুর উপজেলার ৩ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ১৬ জন, তাড়াইল উপজেলায় ২৪ জন, পাকুন্দিয়ায় উপজেলায় ৪ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ১১ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৯ জন, ভৈরব উপজেলায় ৪১ জন, নিকলী উপজেলায় ৫ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ৬ জন, ইটনা উপজেলায় ১১ জন, মিঠামইন উপজেলায় ১৯ জন ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৩ জন।

এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ১৪১ জনের মধ্যে ৮৯ জন স্বাস্থ্যবিভাগের ছিলেন। এরমধ্যে চিকিৎসকই রয়েছেন ৪২ জন। এছাড়া বাকি ৪৭ জন নার্স, ব্রাদার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান আরো জানান, সর্বশেষ রোববার (১৯ এপ্রিল) পাঠানো ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ঢাকা থেকে পাওয়া গেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পাঠানো নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পেন্ডিং রয়েছে।