হোসেনপুরে শিা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে এলাকায় ােভ ও উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ঐতিহ্যবাহী একটি শিা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে এলাকায় ােভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। আলোচিত এ প্রতিষ্ঠানটি এস.আর.ডি শামছুদ্দিন ভূঁইয়া স্কুল এন্ড কলেজ নামে পরিচিত। স্থানীয় শিানুরাগী ও চিরকুমার শামছুদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘ ৭৪ বৎসর পূর্বে তার সকল ভূ-সম্পত্তি দানে গড়ে উঠে এ প্রতিষ্ঠানে। স্থানীয় এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তে, বিদ্যুৎসাহী ও শিানুরাগী শামছুদ্দিন ভূঁইয়ার নামেই এ প্রতিষ্ঠানের নামাকরণ হয়। এস.আর.ডি অর্থাৎ (শাহেদল, রহিমপুর, দাপুনিয়া) এর সাথে সংযুক্ত করা হয় শিানুরাগী ও চিরকুমার শামছুদ্দিন ভূঁইয়ার নাম।
১৯৬৪ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল হিসেবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয়। বিদ্যালয়ের কোড নং- ৭৮৫০। শিানুরাগী ও মহান এই ব্যক্তি ভূ-সম্পত্তিহীন অবস্থায় ২০০১ সনে মৃত্যু হলে তার স্বপ্নের এ স্কুল প্রাঙ্গনেই তাকে সমাহিত করা হয়। বিগত ২০১২ সন থেকে এ উচ্চ বিদ্যালয়টি কলেজে রূপান্তরিত হয়। কলেজ শাখাটিও বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত যার কলেজ কোড নং- ৭৯৫১। প্রতিষ্ঠা লগ্নের পর থেকে সুদীর্ঘ ৭৪ বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এ.কে.এম শামছুল হক (গোলাপ মিয়া) সহ এলাকার বিশিষ্ট ১৪ জন ব্যক্তি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকারী কোন সভাপতিই কোনদিনই প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করেননি।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ মোঃ নূরুল আলম ভূঁইয়া (হেলাল) প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার পর থেকে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পায়তারা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্য মাহফুজুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্য (পকেট কমিটি) এ ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত।
ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় এলাকাবাসী, শিার্থীর ও অভিভাবকরা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে থাকেন। এতেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। এলাকাবাসী জানতে পারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূরুল আলম ভূঁইয়া হেলাল প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তার পিতা মাস্টার ছাখাউদ্দিন ভূঁইয়ার নামে নামাকরণ করার পায়তারা চালাচ্ছে। সে ল্েয চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী হোসেনপুর সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ২৮৩/১৮ নং একটি বায়নাপত্র দলিলও সম্পাদন করেন।
নতুন নামের এস.আর.ডি মাস্টার ছাখাউদ্দিন ভূঁইয়া কলেজের অনুকূলে জমি দানের ঘটনায় ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী। ঐতিহ্যবাহী এ স্কুল এন্ড কলেজের সুনাম রার্থে অবশেষে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবীর মুখে কিশোরগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা দায়ের করা হয় (যার নম্বর ২১/২০১৮ সন অন্য)। মামলার বাদী মোঃ নাছির উদ্দিন ভূঁইয়া ও মোঃ মতিউর রহমান। মামলার বিবাদী করা হয় সভাপতি নূরুল আলম ভূঞা হেলাল, সদস্য-সচিব ভারপ্রাপ্ত অধ্য মাহফুজুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ২৪ জনকে। ইতিমধ্যে বিবাদী প আদালতে তাদের লিখিত জবাব প্রদান করেছে। দাখিলকৃত জবাবেও বিবাদীপ স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রী কোর্স চালু করতে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ অংশটি পৃথক করার জন্য এ কৌশল নেয়া হয়েছে। এদিকে এসব ঘটনায় শিা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ব্যবস্থাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিার্থীদের মাঝেও অস্থিরতা ও হতাশা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতির সাথে একাধিকবার তার মোবাইল ০১৭১৩-০০৪৫০০ এ যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্য মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রশাসনিক কার্যক্রম সত্যতা স্বীকার করে এ ব্যাপারে কোন সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

হোসেনপুরে প্রবাসীর বাড়ীঘরে হামলা লুটপাট ভাংচুর
অতঃপর ঘরে তালা

স্টাফ রিপোর্টার: হোসেনপুর উপজেলার সহেদল ইউনিয়নের বীরপাইকশা গ্রামের প্রবাসীর বাড়ীঘরে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর ও প্রবাসীর কন্যাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে একই গ্রামের জালাল উদ্দিন ও মজলু মিয়া।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ সন্ধ্যার দিকে জালাল মিয়া ও মজলু মিয়ার প্রবাসী নজরুল ইসলাম এর বাড়ীতে গিয়ে তাহার তিন কন্যা সুফিয়া আক্তার, সুবর্না আক্তার, তানিয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসা করে তোর বাবা মা বিদেশ থেকে টাকা পয়সা পাঠাইছে কি না। বড় মেয়ে বলে তুমি ফোন করে জিজ্ঞাস করতে পার না। জালাল প্রবাসী নজরুল ইসলামের কাছে বড় অংকের টাকা দাবী করে ফোনে। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলাম টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাহাকে অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে জালাল। এক পর্যায়ে বলে তোর মেয়েদের ধর্ষন করে মান ইজ্জত নষ্ট করিব, যাহা রেকর্ড আছে। জালাল ও মজলু ফোন কেটে দিয়ে অনধিকার বলে প্রবাসীর ঘরে প্রবেশ করিয়া মেয়েদের মারপিট করিয়া নীলাফুলা জখম করে এবং বড় মেয়ে সুফিয়া আক্তারকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। পরে জালাল মজলু মারপিট করিয়া ঘরে ভাংচুর করিয়া টাকা পয়সা লুটপাট করিয়া মেয়েদের ঘর থেকে বাহির করিয়া ঘরে তালাবদ্ধ করিয়া ফেলে। এ ব্যাপারে গত ১৯/৩/১৮ তারিখে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মেয়েদের মামা রুহুল আমিন বাদী হয়ে একটি মামলা দয়ের করেন। মামলা নং- ১০২/১৮।