সোনা রঙের ফুল সোনাপাতি


ছবি ও লেখা ঃ মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
সোনাপাতি মাঝারি জাতের চিরসবুজ বৃক্ষ। এর পরিবার ঃ ইরমহড়হরধপবধব,উদ্ভিদ তাত্বিক নাম ঃ ঞবপড়সধ ংঃধহং। আদিনিবাস আমেরিকা। যুক্তরাষ্টের ভারজিন আইল্যান্ডের অফিসিয়াল ফাওয়ার সোনাপাতি। পরিচিত অন্যান্য নাম-চন্দ্রপ্রভা,হৈমন্তী। সোনাপাতি ফুলের অপর এক প্রজাতি যার উদ্ভিদতাত্বিক নাম ঃ ঞবপড়সধ মধঁফরপযধঁফর এবং এর ফুল সোনাপাতির চেয়ে আকারে একটু বড়। সোনাপাতির ইংরেজীতে নাম ণবষষড়ি নবষষং,ণবষষড়ি ঃৎঁসঢ়বঃ। ফুলটির এমন সব নামকরনের পেছনে রয়েছে এ ফুলের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট। ফুল রঙে হলুদ বা সোনালী রঙের। ধারণা করা হয় সোনালী রঙের আকর্ষণীয় রং-রূপের ফলে সোনাপাতি নামকরণ। এর ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম গ্রীষ্ম,বর্ষা ও হেমন্ত। আর হেমন্তে ফোটে বলে হৈমন্তী নামকরণ। তবে প্রায় সারা বছর জুড়ে গাছে কম বেশী ফুল ফোটতে দেখা যায়। ফুল গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে বড় বড় থোকায় ঘনসন্নিবিষ্ট ভাবে ধরে। ঘন সবুজ পাতার মাঝে সোনালী রঙের ফুল খুবই নজরকাড়া। ফুটন্ত ফুল দেখতে ঘন্টা আকৃতির। কেউ কেউ আবার একে ঘন্টা ফুল বলে জানেন যদিও তা ভুল। দল ফানেলের আকার,৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার চওড়া। ফুটন্ত ফুল মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গকে আকর্ষণ করে। ফল শুকনো,বিদারী, ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা,বীজ আকারে ছোট ও পক্ষল। বীজ ও ডাল কাটিং এর মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়। গাছের উচ্চতা গড়ে ৩ থেকে ৪ মিটার। শাখা-প্রশাখা ছড়ানো ও ঝোপালো। গাছ দ্রুত বর্ধনশীল। গাছের কান্ড ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত মানের। যৌগিক পাতা,লম্বায় ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার,কিনারা করাতের মতো খাঁজ কাটা,অমসৃণ যা দেখতে ভল্লাকার। পত্রক দুই থেকে তিনটি। সাম্প্রতিক সময়ে এ সোনাপাতি ফুল আমাদের দেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। ডাল কাটিং এর মাধ্যমে তৈরিকৃত ছোট গাছ বাসা-বাড়ীর বড় টবে চাষ সম্ভব। তাইতো ইদানিং সময়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়ীর টবে সোনাপাতির দেখা মিলে। তাছাড়া মাঝারি থেকে একটু বড় গাছের দেখা মিলে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগান,পার্ক,উদ্যান ও দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক-মহাসড়কের আইল্যান্ডে। উঁচু ভূমি থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ উপযোগী ফুল গাছ। তাছাড়া গাছ বেশ কষ্ট সহিষ্ণু।