রাইসিকে আলোচনার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানকে আলোচনার টেবিলে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি মেনে তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, কূটনীতির জন্য দরজা চিরকাল খোলা থাকবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত বৃহস্পতিবার ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন রাইসি। তবে তাঁর উত্থান সত্ত্বেও ইরানের সব শাখার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

তিন বছর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন, তা ফেরাতে ছয় পরাশক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। গত ২০ জুন ভিয়েনায় ওই আলোচনার শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘ইরানের আগের প্রেসিডেন্টদের কাছে যে বার্তা ছিল, প্রেসিডেন্ট রাইসির কাছে সেই একই বার্তা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র নিজের ও সহযোগীদের হুমকি প্রতিরোধ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অগ্রসর হবে। ইরান এখন কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।’

নেড প্রাইস বলেন, ‘আমরা ইরানকে দ্রুত আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আমাদের বাকি কাজগুলো শেষ করতে পারি। কারণ, এ প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। ’

২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হয় ইরানের। ওই চুক্তির মূল বিষয় ছিল, ইরান পরমাণু কার্যক্রম সীমিত রাখবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন ইরানের যেকোনো পরমাণু স্থাপনায় যেকোনো সময় পরিদর্শন করতে পারবে।

বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানও এই চুক্তি থেকে সরে যায় এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের কাজ শুরু করে। যদিও দুই পক্ষ থেকে এই চুক্তিতে ফেরার ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ই বলা হয়েছে।

মাথা নত করবে না ইরান

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যেকোনো কূটনৈতিক তৎপরতাকে তেহরান সমর্থন করবে। কিন্তু কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না তাঁর দেশ। রাইসি বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার পর এসব কথা বলেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত ১৮ জুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন অতিরক্ষণশীল রাইসি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চার বছরের মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি পার্লামেন্ট অধিবেশনে অংশ নেন।

পার্লামেন্টে রাইসি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে যেকোনো কূটনৈতিক পরিকল্পনা আমরা সমর্থন করব।’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাইসি তাঁর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে ইরানকে থামিয়ে রাখা যাবে না। ইরান তার অধিকার আদায়ে কাজ করে যাবে।

ইসরায়েলের হুমকি

পারস্য উপসাগরে একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের ড্রোন হামলার পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ গত বৃহস্পতিবার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানে হামলা করতে প্রস্তুত ইসরায়েল।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম ওয়াইনেটকে গান্টজ বলেছেন, ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি ইরান।

জেরুজালেম পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সবচেয় বেশি উদ্বেগের সঙ্গে দেখা হয়। অবশ্য ইরানের পক্ষ থেকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সব সময় শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তবে এটা জানা যায় যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা বিকাশ অব্যাহত রেখেছে।

গান্টজ বলেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমস্যা। গত শুক্রবার বিশ্ব তার উদাহরণ দেখেছে। ওই দিন আত্মঘাতী ড্রোনের মাধ্যমে ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনা যে কারও সঙ্গে ঘটতে পারে।

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: