একজন থেকে যেভাবে ৯ জন সংক্রমিত হলেন করোনায়

এ পর্যন্ত বিশ্বে ২৫ লাখ আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯)। মারা গেছেন পৌনে ২ লাখ। মারাত্মক ধরনের ছোঁয়াচে এই রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর উদ্দেশ্য-আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যেন অন্যরা আক্রান্ত না হন।

তবে কি শুধু হাঁচি, কাশি ও আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে দূরে থাকতে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতি মেনে চললেই ছোঁয়াচে এই রোগ থেকে বাঁচা যাবে? এ বিষয়ে চীনের একটি ঘটনা বলছে ভিন্ন কথা।

ঘটনাটি চীনের গুয়াংজু প্রদেশের। উহানের কোভিড-১৯ আক্রান্ত এক ব্যক্তি গুয়াংজুর একটি রেস্তোরাঁয় ডিনারে অংশ নেন। পরে ওই ব্যক্তি থেকে আরও ৯ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হন করোনায়। পরে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেছেন, এই নয় ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার পেছনে নেপথ্য ভূমিকা পালন করেছে ওই রেস্তোরাঁর এয়ারকন্ডিশন্ড (এসি) যন্ত্র।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

গত ২৩ জানুয়ারি উহান থেকে গুয়াংজু আসেন এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি। ২৪ জানুয়ারি তিনি সেখানকার একটি রেস্তোরাঁয় ডিনারে অংশ নেন। তার টেবিলে বসেছিলেন চারজন। আর পাশের দুই টেবিলে বসেছিলেন মোট পাঁচজন-এক টেবিলে তিনজন ও আরেক টেবিলে দুইজন। আর আক্রান্ত ব্যক্তির টেবিলটি ছিল দুই টেবিলের মাঝখানে।

পরের দিন ওই ব্যক্তির করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে জানা যায়, তিনি ছাড়াও তার সঙ্গে ডিনারে অংশ নেয়া আরও নয়জন ব্যক্তি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ তলাবিশিষ্ট রেস্তোরাঁটি ছিল পুরো শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত এবং কোনো জানালা ছিল না। ওই ব্যক্তি যখন ডিনারে অংশ নেন তখন ওই রেস্তোরাঁয় কর্মচারীসহ মোট ৯১ জন উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে তৃতীয় তলায় ১৫টি টেবিলে মোট ৮৩ জন ডিনার করেন।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই রেস্তোরাঁর শুধু নয়জনই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আর তারা ওই ব্যক্তির সঙ্গেই ডিনার করেছিলেন। বাকিরা আক্রান্ত হননি।

বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে গবেষকরা বলছেন, এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে রেস্তোরাঁর এসি। গবেষকরা দেখেছেন, ওই ব্যক্তি যে ফ্লোরে ডিনারে অংশ নেন, তার ও পার্শ্ববর্তী দুই টেবিলের দূরত্ব ছিল ৬ মিটার। আর একটি থেকে অন্য টেবিলটির দূরত্ব ছিল এক মিটার।

সেখানে টেবিল এ (যে টেবিলে আক্রান্ত ব্যক্তি বসেছিলেন) ও বি’র সদস্যরা মোট মিনিট ও এবং এ ও সি’র সদস্যরা একে অন্যের সঙ্গে ৭৩ মিনিট সময় কাটান।

গবেষণায় দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রটির বাতাস আসা-যাওয়ার পথটি ছিল সি পরিবারের সদস্যরা যে টেবিলে বসেছিলেন তার ঠিক ওপরে। আর আক্রান্ত ব্যক্তির জীবাণু অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে গেছে এসির মাধ্যমে। এক্ষেত্রে এসির বাতাসের গতিপ্রবাহ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।

এই ঘটনার আলোকে গবেষকরা বলছেন, শুধু হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে নয়, একে অপরের সঙ্গে কথা বলার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে কোভিড-১৯। তাই এসি থেকে আপাতত সাবধানই থাকতে হবে বৈকি।

Daily Amar bangladesh

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries