তাড়াইলে গ্রাম আদালত নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন: র‍্যালি, ভিডিও শো আর কুইজে মুখর পংপাচিহা বাজার

মুকুট রঞ্জন দাস:

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে পংপাচিহা বাজারে জড়ো হতে থাকেন নানা বয়সী মানুষ। কারও হাতে বাজারের ব্যাগ, কেউ আবার কৌতূহলী দর্শক। হঠাৎই ভেসে আসে একটি পরিচিত স্লোগান— “অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে।” এরপর শুরু হয় ব্যতিক্রমধর্মী এক সচেতনতামূলক আয়োজন, যা মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি করে পুরো এলাকায়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের পংপাচিহা বাজারে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বার্ষিক ক্যাম্পেইন ও ভিডিও শো অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাজার এলাকায় বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিতে অংশ নেন তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের প্রশাসক (উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী) হাসিবুর রহমান নাদিম, উপজেলা কো-অর্ডিনেটর হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ, গ্রাম আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুল আহাদ রুশো, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, বিএনপির সভাপতি মুসলিম, আলী আকবর রাজ্জাকী, মাহবুব আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

র‍্যালির পাশাপাশি মাইকিং ও গ্রাম আদালতের থিম সং প্রচার করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, সুবিধা এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

র‍্যালি শেষে বাজারের নির্ধারিত স্থানে ডিজিটাল প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিডিও শো প্রদর্শন করা হয়। নাটিকা ও তথ্যচিত্রভিত্তিক এ প্রদর্শনীতে দেখানো হয়, কীভাবে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত, সহজ এবং স্বল্প ব্যয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়। ভিডিও শো ঘিরে নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এটি মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করে এবং আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেয়।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল ভিডিও শো শেষে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতা। প্রদর্শিত তথ্যচিত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে ২০ জন বিজয়ী নির্বাচন করা হয় এবং অতিথিবৃন্দ তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে গ্রাম আদালত সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও পরিষ্কার হয়েছে। তারা মনে করেন, সচেতনতা বৃদ্ধির এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্থানীয় পর্যায়ে সহজ ও কার্যকর বিচারপ্রাপ্তিতে আরও উৎসাহিত করবে।

গ্রাম আদালতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের এই আয়োজন যেন একদিকে সচেতনতার বার্তা, অন্যদিকে স্থানীয় ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির একটি সফল প্রয়াস।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ