পরিবর্তনের ডাক: স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন আবু মিরন
ডেস্ক নিউজ: অবশেষে সকল জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্কটিশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন আবু মিরন। আবু মিরন ২০২৬ সালের স্কটিশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নিবন্ধন নবায়নে ও অর্থনৈতিক জটিলতার কারণে আলবা পার্টির নেতা ক্যানি ম্যাকআস্কিল গত ৮ মার্চ জাতীয় নির্বাহী পরিষদের পাঁচ সদস্যের সম্মতিতে এক বৈঠকের মাধ্যমে দলটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ মাত্র চার সপ্তাহ আগে, ৭ ফেব্রুয়ারি ডান্ডির দ্য ভাইন ভেন্যুতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আবু মিরনসহ দলীয় প্রার্থী ও কর্মীরা চরম হতাশা প্রকাশ করেন। এতে অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ভাবলেও, অনেকে তা সময় ও অর্থের অপচয় বলে মন্তব্য করে সরে দাঁড়ান।
দীর্ঘদিন ধরে স্কটল্যান্ডের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তৃণমূল থেকে উঠে আসা আবু মিরনের নেতৃত্বগুণ ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে সমাদৃত। এই প্রেক্ষাপটে “লিবারেট স্কটল্যান্ড” এবং ওয়ার্কার্স পার্টি উভয়ই তাকে দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
পরবর্তীতে কর্মী, সমর্থক ও রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আবু মিরন জর্জ গ্যালোয়ের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এডিনবড়ার দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা আবু মিরন স্বল্প সময়ের মধ্যেই দলীয় যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসন্ন নির্বাচনে এডিনবরা নর্দার্ন আসনে সরাসরি এবং এডিনবরা ও লোথিয়ান অঞ্চলের তালিকা থেকে প্রার্থী হওয়ার মনোনয়ন লাভ করেন।
গতকাল ২৭ মার্চ স্কটল্যান্ডের বাণিজ্যিক রাজধানী গ্লাসগোর দ্য পিয়ারস ইনস্টিটিউটে আয়োজিত দলীয় সম্মেলনে ওয়ার্কার্স পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে, যেখানে আবু মিরনের প্রার্থিতাও নিশ্চিত করা হয়।
প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবু মিরন তার বক্তব্যে বলেন, “আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, যে প্রতিদিন মানুষের জীবনের চাপ ও কষ্টকে বোঝে।
সত্যি কথা বলতে, জীবন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বাড়িভাড়া, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু আয় সেই হারে বাড়ছে না। সরকারি সেবাগুলো চাপে রয়েছে, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় অপেক্ষার সময় বেড়েছে বহুগুণ। অথচ ক্ষমতাসীনরা সাধারণ মানুষের কথা শুনছে না।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই কারণেই আমি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের স্বার্থ সবসময় সবার আগে আসতে হবে। আমরা চাই ন্যায্য মজুরি, সবার জন্য বাসস্থানের অধিকার, সাশ্রয়ী জ্বালানি এবং জনগণের জন্য কাজ করে এমন সরকারি সেবা। এগুলো কোনো চরমপন্থা নয়, বরং সাধারণ বুদ্ধির দাবি।
বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে কেউ যেন জ্বালানি আর খাবারের মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য না হয়। বড় বড় কোম্পানির মুনাফার বিপরীতে সাধারণ মানুষের কষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের সমাজ শক্তিশালী, মানুষ পরিশ্রমী। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থা তাদের জন্য কাজ করছে না। তাই পরিবর্তন আনতেই হবে। রাজনীতি হতে হবে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। লবিস্ট, বড় দাতা বা এলিটদের নয়।
এই প্রচারণা আমার জন্য নয়, আমাদের সবার জন্য। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার জন্য, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না এবং স্কটল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত হবে। আপনি যদি হতাশ হন, আপনি একা নন। আপনি যদি উপেক্ষিত বোধ করেন, আপনি একা নন। আর যদি পরিবর্তন চান, এটাই সময়। একসাথে আমরা একটি শক্ত বার্তা দেব, তা হচ্ছে -পরিবর্তন এখন অপরিহার্য। একসাথে আমরা ন্যায়, মর্যাদা ও সুবিচারের পক্ষে দাঁড়াবো। একসাথে আমরা মানুষের স্বার্থকে মুনাফার আগে রাখবো।”
রাজনীতির বাইরে আবু মিরন দেশ-বিদেশে বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি রোটারি ক্লাব অব এডিনবরার সদস্য এবং একজন সফল উদ্যোক্তা।
এছাড়া তিনি অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষেও সরব। সম্প্রতি তিনি স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনিকে আরও স্বচ্ছ ও মানবিক নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবু মিরনের এই প্রার্থিতা স্কটিশ রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্যের প্রতিফলন এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

