উজ্জ্বল ত্বকের জন্য আমের প্যাক

ত্বক উজ্জ্বল করার পাশাপাশি ব্রণের সমস্যা কমাতে ব্যবহার করা যায় আম।
আম যেমন খেতে মজাদার তেমনি ত্বকের জন্য উপকারী।

মধুমাস না হলেও আম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এখনও। আর এই ফল দিয়ে রূপচর্চা রয়েছে নানান পন্থা।

ত্বকে আম ব্যবহারের রয়েছে নানান উপকারিতা।

আর্দ্রতা রক্ষা: রসালো আমে জলীয় উপাদান বেশি যা ত্বক আর্দ্র রাখে।

এই বিষয়ে হেল্থশটস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের গুরুগ্রামের ত্বক বিশেষজ্ঞ ও কসমেটোলজিস্ট ডা. উর্বি পাঞ্চাল বলেন, “এতে আছে ভিটামিন এ, সি কে এবং ই। এছাড়াও এর বিটা ক্যারোটিন ত্বক মসৃণ রাখে এবং স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতা দেয়।

বয়স-রোধী উপাদান: আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ‘ফ্রি রেডিকেল’য়ের বিরুদ্ধে কাজ করে অকালে বয়সের ছাপ কমায়। বলিরেখা, ত্বকের ভাঁজ এবং ঝুলে পড়া প্রতিরোধে সহায়তা করে।

উজ্জ্বলতা বাড়ায়: আম ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা ত্বকে উজ্জ্বলতা দান করে ও চকচকে-ভাব আনে। ত্বকের দাগছোপ দূর করতে ও বর্ণের অসামঞ্জ্যসতা কমাতে সহায়তা করে।

ব্রণ ও ফুসকুড়ি কমায়: আমে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান যা ত্বকের জ্বলুনি কমায় এবং ব্রণের কারণে হওয়া লালচেভাব কমাতে সহায়তা করে। এতে থাকা এঞ্জাইম ত্বকের মৃতকোষ দূর করে লোমকূপ উন্মুক্ত করতে সহায়তা করে।

কোলাজেন উৎপাদন: আমে রয়েছে ভিটামিন এ যা কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ায়। ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে এবং ঝুলে পড়াভাব প্রতিরোধ করে, জানান এই বিশেষজ্ঞ।

আমের তৈরি কয়েকটি ফেইস প্যাকের পন্থাও দিয়েছেন ডা. পাঞ্চাল।

আম, চিয়া বীজ ও দইয়ের ফেইস প্যাক

উপকরণ: দুই টেবিল-চামচ পাকা আমের অংশ, এক টেবিল-চামচ সাধারণ দই, এক চা-চামচ চিয়া বীজ।

পদ্ধতি: একটা পাত্রে আমের শাঁস নিয়ে সঙ্গে দই ও চিয়া বীজ যোগ করে ভালো মতো পেস্ট করে নিতে হবে। সংবেদনশীল অংশ বাদ দিয়ে মুখ ও গলায় প্যাক মেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

এই প্যাক ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে।

আম, মধু এবং ওটমিলের প্যাক

উপকরণ: দুই টেবিল-চামচ পাকা আমের শাঁস। এক টেবিল-চামচ ওটমিল।

পদ্ধতি: ওটমিল ভালো মতো ব্লেন্ড করে গুঁড়া করে নিতে হবে। এতে সামান্য মধু ও আমের শাঁস যোগ করে পেস্ট করে নিতে হবে। মিশ্রণটি মুখ ও গলায় ভালো মতো মেখে গোলাকারভাবে হালকা চাপ দিয়ে মালিশ করতে হবে। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

আমের এই প্যাক ত্বক আর্দ্র রাখে, জ্বলুনি কমায় এবং ব্রণ ও দাগছোপ কমাতে সহায়তা করে।

আম ও মধুর প্যাক

উপকরণ: দুই টেবিল-চামচ পাকা আমের শাঁস। এক টেবিল-চামচ খাঁটি মধু।

পদ্ধতি: একটা পাত্রে মধু ও আমের শাঁস ভালো মতো মিশিয়ে মুখ ও গলায় মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে এই প্যাক কার্যকর।

আম ও মুলতানি মাটি

উপকরণ: দুই টেবিল-চামচ পাকা আমের শাঁস। এক টেবিল-চামচ মুলতানি মাটি। প্রয়োজন হলে গোলাপ জল।

পদ্ধতি: আমের শাঁস ও মূলতানি মাটি একটা পাত্রে নিয়ে, সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট বানিয়ে মুখ ও গলায় মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে এই প্যাক ভালো কাজ করে।

আম ও হলুদের ফেইস প্যাক

উপকরণ: দুই টেবিল-চামচ পাকা আমের শাঁস। আধা চা-চামচ হলুদ গুঁড়া। এক চা-চামচ কাঠ বাদামের তেল।

পদ্ধতি: আমের শাঁস ও হলুদ গুঁড়ার সাথে কাঠ বাদামের তেল একটা পাত্রে মিশিয়ে, মুখ ও গলায় মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাক ত্বকের জ্বলুনি ও লালচেভাব কমায় এবং উজ্জ্বলতা আনে।

অনেক সময় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়াভাব দেখা দিতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া ভালো।

Credit:Bd News 24

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries