কিশোরগঞ্জেও ভয়ঙ্কর এডিসের হানা, বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, ভর্তি ৬৭ জন


স্টাপ রিপোরর্টার:
কিশোরগঞ্জে স্থানীয়ভাবেও এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের হিসেব অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫জন স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।কিশোরগঞ্জ জেলায় সনাক্ত হওয়া ২১১ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে বাকি ২০৬ জনের প্রায় সবাই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে যুবক-তরুণের সংখ্যাই বেশি। তারা হয় ঢাকায় বসবাস করেন অথবা পড়শোনা ও পারিবারিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করেছেন।প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জেলার হাসপাতালগুলোতে উে ে দ্বগজনকভাবে ভীড় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীদের। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।গত দুইদিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৫৩ জন রোগী নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এছাড়া অন্তত ৩০ জনকে জরুরি অবস্থায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।এর মধ্যে সর্বশেষ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাতে একজন এবং শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে দুইজনকে রেফার্ড করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত জলার ৫টি হাসপাতালে মোট ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৩৯ জন, বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯জন, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন এবং রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।তবে জেলার হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী ও তাড়াইল এই পাঁচটি উপজেলা এবং কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কেউ সনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান।শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার আইসোলেশন ওয়ার্ডের দুইটি কে অস্থায়ীভাবে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের তৃতীয় তলার মেডিসিন ওয়ার্ড, চার তলার শিশু ওয়ার্ড এবং ষষ্ঠ তলার মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) হাসপাতালটিতে ৩৬ জন রোগী ভর্তি থাকলেও শুক্রবার (২ আগস্ট) বেড়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯ জনে। এর মধ্যে নিচতলার ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া ওয়ার্ডে ১১ জন, মেডিসিন ওয়ার্ডে ২১ জন, শিশু ওয়ার্ডে ২ জন এবং মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।হাসপাতালটিতে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাতে ৩ জন এবং শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে আরো ৩ জনসহ মোট ৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাতে একজন এবং শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে দুইজনকে রেফার্ড করা হয়েছে।নতুন ভর্তি হওয়া ৬ জন রোগীর মধ্যে মা ও ছেলেও রয়েছেন। শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালটিতে বেদেনা খাতুন (৩৮) ও তার ছেলে আবু কালাম (১৭) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন।আবু কালাম জেলার কটিয়াদী উপজেলার শিংগুয়া গ্রামের আব্দুছ ছালামের ছেলে। তিনি জানান, তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আবু কালাম তৃতীয়। বাবা আব্দুছ ছালামের ক্যান্সার ধরা পড়ায় সম্প্রতি মা বেদেনা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে আবু কালাম বাবার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান।বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে বাড়িতে ফেরার পর পরই তিনি শরীরে জ্বর এবং প্রচ- মাথা ব্যথা অনুভব করেন। শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে বেদেনা বেগম ছেলে আবু কালামকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর তিনিও শরীরে জ্বর এবং প্রচ- মাথা ব্যথা অনুভব করেন। পরে দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদলের আকাশ (১৯) জানান, তিনি এইচএসসি পাশের পর ভর্তি কোচিংয়ের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। থাকতেন ধানম-ি এলাকায়। গত পাঁচদিন আগে ডেঙ্গুয় আক্রান্ত হলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অর্থনীতিতে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন পাকুন্দিয়ার মেহেরধনবাড়ির মাহাবুবুর রহমান (২০)। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার শিল্প মন্ত্রণালয়ের হোস্টেলে থেকে ইন্টার্নি করছেন ইলেকট্রিক্যালে ডিপ্লোমা করা পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়িয়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন অন্তর (২১)। তিনিও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।করিমগঞ্জের গুনধর গ্রামের রতন দেবনাথ ঢাকায় একটি মিষ্টির দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনিও এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।হাসপাতালের রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৯ জন রোগীর মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) ডা. সুলতানা রাজিয়া জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগিদের প্রায় সবাই ঢাকায় গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। রোগীর চাপ থাকায় হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলাসহ পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, কিশোরগঞ্জে স্থানীয়ভাবে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোতোভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries