সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ সম্পর্কে যা বললেন মেজর (অব.) আখতার

বিশেষ প্রতিনিধি
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী) আসনের দু’বারের সাবেক সংসদ সদস্য। বিএনপির এই হেভীওয়েট নেতা এই আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন পরাজিত হন। তখন এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মহাজোট প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান। বিভিন্ন সময় দলের সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব সম্পর্কে বক্তব্য দিয়ে আলোচিত বিএনপির দু’বারের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। ব্যক্তি ইমেজের কারণে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের এ আসনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। তবে সাবেক আইজিপি, সচিব ও রাষ্ট্রদূত নূর মোহাম্মদ এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক আইজিপি, সচিব ও রাষ্ট্রদূত নূর মোহাম্মদ এর মনোনয়ন ঠেকাতে এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের ১১ মনোনয়ন প্রত্যাশী একজোট হয়ে দলের সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবেও সাবেক আইজিপি, সচিব ও রাষ্ট্রদূত নূর মোহাম্মদ এর মনোনয়নের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কারো কারো প থেকে। এ রকম পরিস্থিতিতে বুধবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এ ব্যাপারে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন লিখেছেন, “বিভিন্ন তথ্যে শোনা যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ ২ (কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া) নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ সাহেবের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অন্য ১১ জন প্রার্থী খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নৌকা না দেয়ার জন্য বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়েছে। এই খবরটিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ পেয়েছি। একজন সাবেক আইজিপি নিঃসন্দেহে একজন যোগ্য প্রার্থী। সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ যদি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পায় তাহলে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে আমি অবশ্যই নূর মোহাম্মদ সাহেবকে অভিনন্দন জানাবো। সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের মত একজন যোগ্য প্রার্থীর বিপে নির্বাচন করতে খুবই আনন্দিত বোধ করবো। তবে আওয়ামী লীগের অন্য ১১ জন আগ্রহী প্রার্থী সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে যে নোংরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাতে এলাকাবাসী এবং রাজনৈতিক প্রতিপ হিসাবে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়েছে। সন্দেহ নাই ১১ জন সন্মানিত আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ সাহেবের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী অনেক আছে। কিন্তু নূর মোহাম্মদ সাহেবের মত জনপ্রিয়তা তাদের কারোই নাই বলেই হয়তো নৌকার মনোনয়ন পায় নাই। আমাদের ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না- একজন সাবেক আইজিপির দেশময় জনপ্রিয়তা আছে। তাছাড়া সমগ্র পুলিশবাহিনীতেও সাবেক আইজিপির জনপ্রিয়তা অনস্বিকার্য। এলাকাতেও উনার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমার জন্য অবশ্যই তিনি একজন শক্তিশালী প্রতিযোগি হবেন কিন্তু তাই বলে একজন সাবেক আইজিপি ও সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে নোংরা রাজনীতি সমর্থন যোগ্য নয়। শত হলেও জনাব নূর মোহাম্মদ কটিয়াদি তথা সমগ্র কিশোরগঞ্জের একজন প্রতিষ্ঠিত কৃতি সন্তান। তাই উনাকে জনসমে হেয় করা ভাল দেখায় না। এই ধরনের নোংরা আচরণ কোন ভাল রাজনীতি হতে পারে না। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস- আমার প্রতিযোগি অবশ্যই আমার মতও সন্মানীয়।

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries