জিয়াউর রহমান এই দেশকে স্বাধীন করেছে, এটা আমাদের গর্ব-মির্জা ফখরুল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সকল নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- তারেক রহমান
আমিনুল হক সাদী
আমরা সেই দল যে আমরা উড়ে এসে জুড়ে বসিনি, আমরা লড়াই করে সংগ্রাম করে এই বাংলাদেশে এসেছি। আমাদের যে নেতা জিয়াউর রহমান এই দেশকে স্বাধীন করেছে। এটা আমাদের গর্ব। শহীদ জিয়া সেই ব্যক্তি যে স্বাধীনতাকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য আলাদা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আরোও বলেন,একাত্তরে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দল এমনকি যাদের কালকে জন্ম হয়েছে তারাও আজ বিএনপিকে নিয়ে কথা বলে। কিন্তু বিএনপি হলো ফিনিক্স পাখির মতো—এ দলকে ভাঙার নানান ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু কোনোটি সফল হয়নি। বরং ষড়যন্ত্রকারীরাই পালিয়ে গেছে।
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে
জেলা বিএনপি’র ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে এসব বলেন তিনি।
জেলা বিএনপির সম্মেলনে উপলক্ষে সকাল থেকে শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ভিড় জমে লাখো নেতা-কর্মীর। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে তারা যোগ দেন সম্মেলনে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সকল নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাহলে কোন ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও অদৃশ্য শক্তি ধীরে ধীরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তাই একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই’এ সময় তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নির্বাচন। আপনারা এরমধ্যেই বিভিন্ন আলামত দেখতে পাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ বিএনপির সঙ্গে আছে। জনগণের রায় নিয়েই বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ। কোন ষড়যন্ত্রই বিএনপির বিজয় রুখতে পারবে না।
সম্মেলন শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, প্রধান বক্তা ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল। অতিথি ছিলেন যুগ্ন মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি রুহুল হোসাইন,এড. জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল,সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাঈল মিয়া,আমিনুল ইসলাম আশফাক,আমিনুল ইসলাম রতন,পিপি এড জালাল উদ্দীন, জহিরুল ইসলাম মবিণসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইকরাম হোসাইন। সম্মেলনে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জেলা ওলামাদলের আহবায়ক মাও রফিকুল ইসলাম।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিকাল চারটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ভোট দেবেন দুই হাজার নব্বই জন কাউন্সিলর।এই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকাল চারটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পুরাতন স্টেডিয়ামে কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট গণনার পর প্রকাশ করা হবে ফলাফল। জেলা বিএনপি’র ২১টি ইউনিটের ২ হাজার ১শ’ ৭ জন কাউন্সিলর ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন। সভাপতি পদে দুইজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভাপতি পদের দুইজন প্রার্থী হলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি মো. শরীফুল আলম এবং জেলা বিএনপি’র বর্তমান সহ-সভাপতি রুহুল হোসাইন। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদের চারজন প্রার্থী হলেন, জেলা বিএনপি’র বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপি’র বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, নিকলী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল আলম রাজন এবং নিকলী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট এ এম ছাজ্জাদুল হক।

