তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে এ টি এম শামসুজ্জামান

শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী এ টি এম শামসুজ্জামান। পুরান ঢাকার একটি হাসপাতালে আজ বুধবার বিকেলে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। খবরটি জানিয়েছেন বরেণ্য এই অভিনেতার মেজ মেয়ে কোয়েল আহমেদ।
কোয়েল জানান, দুই দিন ধরে খাবার খেলেই তাঁর বাবার বমি হতো। শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল। আজ শ্বাসকষ্টের মাত্রাটা বেড়ে যায়। এরপর দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক বাবাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
কোয়েল বলেন, ‘বাবার আজকের অবস্থা দেখে ঘাবড়ে যাই। তাই কোনো ধরনের দেরি করতে চাইনি। সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন।’ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ অসুস্থ হন এ টি এম শামসুজ্জামান। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের তৃতীয় তলায় তাঁর চিকিৎসাসেবা চলে।কোয়েল বলেন, ‘দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরেন বাবা। এক বছর ধরেই শারীরিকভাবে ভালোই ছিলেন। কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। হঠাৎ করে দুই দিন ধরে সমস্যা দেখা দেওয়াতে আবার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।’ ২০১৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান এ টি এম শামসুজ্জামান।এ পর্যন্ত পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক। শতাধিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার এবং তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান আজও তাঁর শ্রেষ্ঠ অভিনয়টি করতে পারেননি বলে মনে করেন। তিনি এমন অভিনয় করে যেতে চান, যার জন্য বাংলাদেশের দর্শক তাঁকে মনে রাখবে। তাঁর আশা, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবার অভিনয়জগতে ফিরবেন। মনের মতো চরিত্রে অভিনয় করবেন।

২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রাতেও বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এ টি এম শামসুজ্জামান। সেদিনও তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। সে রাতে তাঁকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ টি এম শামসুজ্জামানের অন্ত্রে প্যাঁচ লেগেছিল। সেখান থেকে আন্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা। এর ফলে খাবার, তরল, পাকস্থলীর অ্যাসিড বা গ্যাস বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং অন্ত্রের ওপর চাপ বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তাঁর দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর কিছু শারীরিক জটিলতা হয়।
এ টি এম শামসুজ্জামান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ লেখক ও গল্পকার। অভিনয়ের জন্য কয়েকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।

নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে এ টি এম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটের বড়বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্র নাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পোগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাইস্কুলে। তাঁর বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন।মা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন সবার বড়।
এ টি এম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবনের শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুকাভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রজীবন শুরু করেন তিনি। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ ছবিতেও অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা অর্জন করেন।

Source:Kaler Kontho

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries