‘পাকুন্দিয়ার ঐতিহাসিক বেবুদ রাজার দীঘি’

মোঃ মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক বেবুধ রাজার দীঘি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের মজিতপুর গ্রামে বেবুদ নামে একজন হাজং রাজা বাসবাস করতেন।

একবার ওই এলাকায় প্রচন্ড খরা দেখা দিলে বেবুদ রাজা প্রজাদের হিতার্থে ৫০ একর জমি বিস্তৃত একটি দীঘি কাটলেন।

কিন্তু এতে পানির কোন পাত্তাই নেই। এর মধ্যে বেবুদ রাজা রাতে স্বপ্নে দেখেন যে তার রানী যদি দীঘিতে নামেন তবেই পানি উঠবে।

স্বপ্নটি দেখার পর রাজা সকালে ঘুম থেকে উটে স্বপ্নের ঘটনাটি রানীকে জানালে প্রজাদের মুখ পানে চেয়ে রানী দীঘিতে নামতে রাজি হন। এতে রাজাও খুব খুশি হলেন এবং পরদিন রানী এক বাটি কাঁচা দুধ ও পান-সুপারি, সিঁধুর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দীঘিতে নামলেন।

সাথে সাথেই দীঘির চারপাশ থেকে স্বচ্ছ জল এসে দীঘি ভরে গেল। কিন্তু রানী আর দীঘি থেকে উঠতে পারলেন না। চোখের পলকে রানীর কেশগুচ্ছ বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিমজ্জিত হয়ে গেল। রাজা রানীর জন্য পাগল প্রায়ই হয়ে গেলেন। দীঘিটি গভীর থাকায় পানি খুবই স্বচ্ছ দেখায়। বেবুধ রাজা দীঘিটি খনন করেন বিধায় তার নাম অনুসারে এই দীঘিটি বেবুদ রাজার দীঘি নামে পরিচিতি। এ দীঘির পানিতে গাছে পাতা বা অন্য কোনকিছু পরে থাকলে তার পরদিন সকালে পারে এসে জমা হয়। লোক মুখে শোনা যায় কোন অনুষ্ঠানের জন্য দীঘির পারে দাড়িয়ে থালা, বাসুন, ও অন্যান্য তেজসপত্র চাইলে পরদিন দীঘির পারে পাওয়া যেত। তবে শর্ত ছিল যা যা নেওয়া হতো তা সঠিকভাবে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু একদিন কেহ এই শর্ত ভঙ্গ করায় এর পর থেকে তেজপত্র আর পাওয়া যায় না।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ