কটিয়াদী পৌরসভায় তালা ১৮ দিন ধরে সেবা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী!

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রদান ও পেনশনের দাবীতে ঢাকায় আন্দোলনে শরীক হওয়ায় সব ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর শহরের বাসিন্দারা। ফলে সেবা বঞ্চিত হয়ে নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।


জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই রবিবার থেকে সারাদেশের সব পৌরসভার কর্মচারীদের সাথে ঢাকায় আন্দোলনে শরীক হন কটিয়াদী পৌরসভাসহ কিশোরগঞ্জের আরো ৮টি পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। ফলে কটিয়াদী পৌরসভা কার্যালয় কর্মকর্তা কর্মচারী শূন্য হয়ে পড়ায় সেবা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় লক্ষাধিক নাগরিক।


সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ময়লা আর্বজনা পরিস্কার থেকে শুরু করে নাগরিক সেবা সমুহ বন্ধ থাকায় পৌরবাসী দুর্ভোগে পড়েছে। বৃধবার দুপুরে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ময়লা আবর্জনা পরিস্কার না করায় বিভিন্ন স্থান ময়লার ভাগারে পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায়় স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকে সড়ক দিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।


এদিকে প্রতিদিন শত শত নাগরিক বিভিন্ন প্রয়োজনে পৌর কার্যালয়ে এসে ফিরে যাচ্ছে। কোন ধরনের নাগরিক সুবিধা সংশ্লিষ্ট কোন রকম সুবিধাই তারা পাচ্ছেনা।


স্থানীয় এক নাগরিক আবদুল সালাম বলেন, চাকরির জন্য নাগরিক সনদ নেওয়ার জন্য আমি তিনদিন যাবৎ ঘুরছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।
আরেক স্থানীয় মহিলা হেলেনা বেগম জানালেন, আজ নিয়ে ৭/৮ দিন ধরে ঘুরে আসছি। ছেলের জন্ম নিবন্ধন করতে এসে ঘুরে যেতে হচ্ছে। কোনদিন নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করতে পারবো তারও কোনো খবর নেই।


কটিয়াদী বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন,ট্রেড লাইসেন্সের জন্য ১০/১৫ দিন যাবৎ ঘুরছি কিন্তু কর্মচারীরা ঢাকায় আন্দোলনে থাকার কারণে পাচ্ছিনা।


৬ নং ওয়ার্ডের আবুল কালাম জানান, আমার জমি খারিজ করার জন্য ওয়ারিশন সনদ পত্রের জন্য পৌর অফিসে তালা বদ্ধ দেখে ফিরে আসি।


১ নং ওযার্ডের মাহবুব বলেন, আমার সন্তানের জন্য জন্ম নিবন্ধন আনতে যাই। প্রায় ১৮ দিন ধরে কর্মচারীদের আন্দলনের জন্য অফিসের কার্য্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে সেটাও পাইনি।
কটিয়াদী পৌরসভা সার্বিস এসোসিয়েশনের সভাপতি সালাহ উদ্দিন বলেন, রাষট্রীয় কোষাগার হতে বেতন-ভাতা,পেনশন প্রদানের দাবীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আন্দোলনরত আছি।


বাংলাদেশ পৌর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সার্ভিস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কটিয়াদী পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.নজরুল ইসলাম নয়াদিগন্তকে বলেন, নিজস্ব আয় থেকে পৌরসভার কর্মকতা কর্মচারীদের বেতন ঠিকমত পাওয়া যায় না। যার ফলে প্রতিটি পৌরসভায় মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকে। এ কারণে সারাদেশের ৩২৮ টি পৌরসভায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা ও পেনশন দাবী করা হয়েছে। গত ১৪ জুলাই থেকে সারাদেশের পৌরসেনারা এ আন্দোলনে শরীক হয়েছে। আমরা আশা করি সরকার এই দাবী মেনে নিবেন।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ