জাতীয় প্রাথমিক শিা পদক পেলেন কিশোরগঞ্জের সন্তান এ এইচ এম শরীফুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার

শ্রেষ্ঠ ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা করে জাতীয় প্রাথমিক শিা পদক-২০১৮ অর্জন করেছেন কিশোরগঞ্জের সন্তান এ এইচ এম শরীফুল্লাহ। তিনি নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ইন্সট্রাক্টর পদে কর্মরত রয়েছেন। ২০০০ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি এই চাকরিতে যোগদান করেন। গত ১৩ মার্চ ২০১৯ তারিখে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় প্রাথমিক শিা সপ্তাহ-২০১৯ উদ্বোধন ও জাতীয় প্রাথমিক শিা পদক ২০১৮ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আকরাম-আল-হোসেন। এ এইচ এম শরীফুল্লাহ ১৯৭২ সালের ১১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলাস্থ মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ আব্দুস ছাত্তার, মাতা শরীফা বেগম। স্থায়ী বসবাস কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম তারাপাশা এলাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে গণিত বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বিএড ও এমএড কোর্সও সম্পন্ন করেছেন। শুধু জীবিকা অন্বেষণের জন্য এই পেশা তিনি গ্রহণ করেননি। শিাকে একটি কাঙ্তি মানে পৌঁছাতে তিনি সদা সচেষ্ট। পেশাগত জীবনে তিনি তাঁর দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুভাবে পালন করে থাকেন। তিনি তাঁর রুটিন দায়িত্বের বাইরেও কীভাবে মানসম্মত ও একীভূত প্রাথমিক শিা নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অনিয়মিতভাবে লেখালেখি করেছেন। লেখালেখি করেন শরীফুল্লাহ মুক্তি নামে। বর্তমানে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অন্যান্য পত্রপত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রবন্ধের মতো গুরুগম্ভীর রচনার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে মানসম্মত ও একীভূত শিা নিশ্চিতকরণে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন এই শিা-গবেষক। তিনি পেশাগত উৎকর্ষের জন্য নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কর্মসহায়ক গবেষণা পরিচালনা করে থাকেন। তাঁর পরিচালিত ‘বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হওয়া সত্ত্বেও কেন আমাদের শিশুরা বাংলা সাবলীলভাবে পড়তে পারে না: সমস্যাসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং উত্তরণের উপায়’, উচ্চ শিা গ্রহণকারী/উচ্চ শিায় অধ্যয়নরত শিার্থীদের কত শতাংশ মূলস্রোতধারার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থী এবং প্রাথমিক শিার মানোন্নয়নে করণীয়’ এবং ‘বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হওয়া সত্ত্বেও কেন শিশুরা বাংলায় স্বনির্ভর লেখক হতে পারছে না: সমস্যাসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নির্ধারণ’ শীর্ষক কর্মসহায়ক গবেষণাগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাসমূহ আমাদের দেশের প্রাথমিক শিার মানোন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন কর্মসহায়ক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য ও চিন্তার বৈচিত্র্যে বিভিন্ন প্রবন্ধ নিয়ে রচিত তাঁর শিাবিষয়ক তিনটি গ্রন্থ ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থগুলো হলো- শিা-ভাবনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০১৭), শিা শিকতা নৈতিকতা (২০১৮) ও শিশুশিার সাতকাহন (২০১৯)। গ্রন্থগুলো বাংলাদেশের প্রাথমিক শিাব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সন্দেহাতীতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাঁর প্রতিটি প্রবন্ধ/রচনা একজন মননশীল ও পেশাদারী তরুণ শিাচিন্তকের ভাবনার বহুমাত্রিকতার সূচক। লেখকের মননশীলতা, বুদ্ধিমত্তা, দতা, পেশাদারি মনোভাব ও অভিজ্ঞতার সামগ্রিক প্রয়াসের ফসল এই গ্রন্থগুলো মানসম্মত ও একীভূত প্রাথমিক শিা নিশ্চিতকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। গ্রন্থগুলো শিাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে আদৃতও হয়েছে। তিনি একীভূত শিা বাস্তবায়নে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। অটিস্টিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং তাদের শিাব্যবস্থা নিয়ে তিনি নানাবিধ গবেষণামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে আরও ব্যাপক কাজ করার আগ্রহ আছে তাঁর। ইংরেজি শিার কার্যক্রম ও ইংরেজি বিষয়ে শিকদের পেশাগত দতা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ইংলিশ ইন এ্যাকশন (ঊওঅ) প্রকল্পের একজন প্রশিক তিনি। কমিউনিকেটিভ পদ্ধতিতে পাঠ, খেলা এবং মোবাইলের মাধ্যমে ইংরেজি শিার ব্যাপারে জনগণকে সচেতন ও আগ্রহী করে তোলা ইংলিশ ইন এ্যাকশনের উদ্দেশ্য। ইংলিশ ইন এ্যাকশনের অন্যতম অনুষঙ্গ মোবাইল ভার্সনের জন্য তিনি ভিডিও শুটিং-এ অংশগ্রহণ করেন- যা পরবর্তী সময়ে সারা বাংলাদেশে প্রশিকদের প্রশিণে ব্যবহৃত হয় এবং হচ্ছে। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ‘সংবাদ’সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিক শিাবিষয়ক কলাম লিখে যাচ্ছেন। তিনি একজন দ প্রশিকও বটে; বিভিন্ন প্রশিণে অত্যন্ত সুনামের সাথে প্রশিকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকদের প্রশিণলব্ধ জ্ঞান ও দতা শ্রেণিকে প্রয়োগ, শিকদের প্রশিণ-চাহিদা নিরূপণ, বিদ্যালয়সমূহে শতভাগ মিড-ডে মিল চালু, শিশুদের পঠন ও লিখন দতা বৃদ্ধিকরণ, শতভাগ স্কুলড্রেস নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও শ্রেণিকে এর ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় সহজলভ্য ও ফেলে দেয়া জিনিস দিয়ে শিা উপকরণ তৈরি, ব্যবহার ও ব্যবহারের পর তা সংরণ-কৌশল, প্রতিদিন শিশুদের একটি করে বাংলা ও ইংরেজি শব্দ শেখানো ইত্যাদি বিষয়ে শিকদের সার্বিকভাবে সহায়তা প্রদান করে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। স্ত্রী ফেরদৌস আরা বেগম, পুত্র তাসনীম ফেরদৌস শান্ত (সিলেট ক্যাডেট কলেজ, অষ্টম শ্রেণি) ও কন্যা তৈয়বা শরীফুল্লাহ তোরসা (চতুর্থ শ্রেণি)। তিনি স্বপ্ন দেখেন প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে শিশুদের কাছে স্বপ্নের ঠিকানা: প্রতিটি শিশু ঘুম থেকে উঠে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যাবে, স্কুল হবে শিশুর কছে ভয়মুক্ত ও আনন্দময়, সকল শিশু নির্ধারিত যোগ্যতাগুলো অর্জন করে সফলভাবে প্রাথমিক শিা শেষ করবে, বাংলাদেশের বহুধাবিভক্ত প্রাথমিক শিা একদিন এক ধারায় পরিচালিত হবে, সকল শিক পূর্ব-প্রস্তুতি নিয়ে পাঠপরিকল্পনা ও শিা উপকরণসহ শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কর্মসূত্রে তিনি ফিলিপাইন ভ্রমণ করেছেন। তাঁর আগ্রহের বিষয় চিত্রকলা ও সংগীত। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও সম্পৃক্ত আছেন। সংস্কৃতিমনা এই লেখক অবসরে সন্তানদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries