ভেষজ উদ্ভিদ বাসক
মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
বাসক ছোট আকৃতির চিরহরিৎ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর আদিনিবাস আফ্রিকা ও এশিয়ার উষ্ণ অঞ্চল। ইংরেজী নাম ঃ ঠধংধশধ,গধষধনধৎ ঘঁঃ ঃৎবব, পরিবার ঃ অপধহঃযধপবধব,উদ্ভিদ তাত্বিক নাম ঃ অফযধঃড়ফধ ুবুষধহরপধ। ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে বাসক বেশ পরিচিত এক উদ্ভিদ। এর উচ্চতা গড়ে ১ থেকে ২ মিটার। গাছের শাখা-প্রশাখা অধিক। গাছের কান্ড ও শাখা-প্রশাখা খুব বেশি শক্ত মানের নয়। পাতা আকারে বড় ও ঘন, রং সবুজ, গন্ধযুক্ত, দেখতে ভল্লাকার,অগ্রভাগ সূচালো,শিরা উপশিরা স্পষ্ট। গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে থোকায় থোকায় ফুল ধরে। ফুল ফোটার মৌসুম বসন্তকাল। ফুল আকারে ছোট, ছোট স্পাইকের উপর ফোটে। পাপড়ি রঙে সাদা এবং তাতে কয়েকটি বেগুনি দাগ থাকে। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফল সুপারির আকৃতির এবং এর ভেতর থাকে বীজ। বীজ ও ডাল কাটিং এর মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা যায়। তবে ডাল কাটিং পদ্ধতিতে উত্তম। ডাল কাটিং এর ক্ষেত্রে গাছের অপেক্ষাকৃত মাঝারি শক্ত মানের ডালই উত্তম। কাটিং করার ক্ষেত্রে কাটিং এর দৈর্ঘ্য হবে ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার। কাটিং পদ্ধতিতে চারা রোপণের ক্ষেত্রে বর্ষার শুরু অথ্যাৎ মে-জুন মাসই উত্তম সময়। জমিতে রোপণের ক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। প্রায় সব ধরনের মাটি এবং উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ও সমতল ভূমিতে বাসক রোপণের জন্য উপযোগী। তাছাড়া আদ্র ও ভেজা মাটি এবং হাল্কা ছায়া থেকে ছায়াযুক্ত স্থানে বাসক জন্মে। বাসক বেশ কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ। পরিবেশ প্রতিকুলতার মাঝেও নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম। ভেষজ গুণে গুণান্বিত বাসকের রয়েছে নানান রকম ভেষজ গুণাগুণ। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও তা প্রমাণিত হয়েছে। এর মূল,পাতা,ফুল ও ছালে রয়েছে নানান রকম ভেষজ গুণাগুণ। বাসকের তাজা ও শুকনো উভয় পাতাই ভেষজ গুণ সম্পন্ন। বাসক পাতার রস মাথায় লাগালে মাথার উঁকুন চলে যায়। গায়ের ঘামের গন্ধ দূর করতে এর রস সহায়ক। তাছাড়া সর্দি,কাশি,কফ,হাঁপানি,কৃমি,শ^াসকষ্ট জনীত রোগ,খিঁচুনি রোগে, প্র¯্রাবের জ¦ালা যন্ত্রণা কমাতে, চুলকানি ও চামড়ার দাঁদ সারাতে এবং জন্ডিস রোগে বাসক ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এর অন্যান্য ব্যবহারের মাঝে- পাতা দিয়ে এক প্রকার রং তৈরি করা যায়। এর পাতায় ক্ষারীয় পদার্থ বিদ্যমান থাকায় ফলে সহজে পঁচন ও পোকার আক্রমণ হয়না বলে ফল প্যাকিং ও সংরক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হয়। পাতা দিয়ে তৈরি করা যায় ফসলি জমির জন্য সবুজ সার এবং পাতার রস দিয়ে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক তৈরি করা যায়। যা জৈব কৃষিতে কাজে লাগে। বাসক গাছ ভূমি ক্ষয় রোধে সহায়ক। ভেষজ গুণে গুণাণি¦ত এ বাসক গাছ আমাদের দেশের প্রায় সর্বত্র চোখে পড়ে। তাইতো ভেষজ বাগান,পুকুর পাড়,ছোট-বড় রাস্তার ধার,ক্ষেতের আইলে,বাঁধের ধার,পতিত জমি ও বন জঙ্গলে বাসক দেখতে পাওয়া যায়।
