রক্তকাঞ্চন ফুলের কথা


ছবি ও লেখা ঃ মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
ফুল প্রেমী মানুষের কাছে কাঞ্চন ফুলের নামটি পরিচিত এক নাম। আর প্রিয় এ কাঞ্চন ফুলেরও কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে তা হয়তো সকলের জানা নাও থাকতে পারে। আর যারা জানেন তারা কাঞ্চনের মাঝে রক্তকাঞ্চন ফুলকেই বেশি পছন্দ করেন। এর মূল রহস্য ফুলটির রং শোভা ও সৌন্দর্যকে ভালোবেসে। তাইতো কাঞ্চনের মাঝে রক্তকাঞ্চনই সেরা। কাঞ্চনের জন্মস্থান ভারত,বাংলাদেশ। এর পরিবার ঃ ঈধবংধষঢ়রহধপবধব,উদ্ভিদতাত্বিক নাম ঃ ইধঁযরহরধ াধৎরবমধঃব। রক্তকাঞ্চন ফুল গাছ ছোট আকার আকৃতির বৃক্ষ। গাছের কা- খাট। কা- ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত মানের এবং শাখা-প্রশাখা ছড়ানো। তবে মাঝে মধ্যে বড় আকৃতির গাছও চোখে পড়ে। পত্র ঝরা বৃক্ষ। শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে যায়। আর ফুল ফোটার সময়টাতে গাছ থাকে পত্রশুন্য এবং এ সময়ে রক্তিম ফুলে ফুলে ভরে যায় গাছ। ফুল ফুটন্ত গাছ অত্যন্ত নজর কাড়া। ফুল মূলত ঘন মেজেন্টা রঙের। ফুলে নমনীয় কোমল পাঁচটি পাপড়ি থাকে,এর মাঝে একটি পাপড়ি রঙে ব্যতিক্রম,গোড়ার দিকে গাঢ় বেগুনি রঙের কারুকার্য। ফুলের মাঝে কাস্তের মতো বাঁকা পরাগ অবস্থিত। বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে এক বা একাধিক ফুল ফোটতে দেখা যায়। এর ফুল শীতের শেষ দিকে ফোটা শুরু হয়ে গ্রীষ্মকাল অবধি সময় ধরে ফোটতে থাকে। তবে মৌসুমের শুরুতে গাছে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে। বসন্তের মাঝামাঝি গাছে নতুন পাতা গজায়। পাতা সবুজ,শিরা উপশিরা স্পষ্ট। এর পাতার অন্যরকম বৈশিষ্ট একই বোঁটার পাতা মাঝে দু’ভাগে বিভক্ত থাকে। আবার দুটি পাতা জোড়া দিলে একটি অন্যটির সাথে সমানে সমান। ফুল শেষে গাছে ফল হয়,ফলে বীজ হয়। ফল দেখতে শিমের মতো চ্যাপ্টা,রঙ প্রথমে সবুজ ও পরিপক্কতা এলে কালচে রঙ ধারণ করে এবং শুকিয়ে গিয়ে একসময়ে আপনা আপনিই ফেটে গিয়ে বীজ গুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিপক্ক বীজের রঙ কালচে খয়েরি। গাছ বেশ কষ্ট সহিষ্ণু। বীজ ও ডাল কাটিং এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়। রক্তকাঞ্চনের রয়েছে ভেষজ নানান রকম গুণাগুণ। উঁচু ভূমি,রৌদ্রউজ্জল পরিবেশ থেকে হাল্কাছায়া যুক্ত স্থান ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফুল গাছ জন্মে। আমাদের দেশে কোন কোন বসত বাড়ীতে বা প্রতিষ্ঠানের বাগানে,বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের আইল্যান্ড,পার্ক,উদ্যান,বন-জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় এ রক্তকাঞ্চন ফুল গাছ চোখে পড়ে।

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries