কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনে গাড়ির কারখানা করছে ভারতের টাটা
মো.মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু
কিশোরগঞ্জের কালিয়াচাপড়ায় অবস্থিত কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনে ভারতের টাটা মটরস লিমিটেডের গাড়ি কারখানা স্থাপিত হচ্ছে। গতকাল বুধবার থেকে মোটরগাড়ি কারখানার জন্য সেখানে যন্ত্রপাতি পাঠানো শুরু হয়। বেলা দুই টার দিকে কারখানা স্থাপনের মূলধনী যন্ত্রপাতি নিয়ে দুটি লরি ইকনোমিক জোনে প্রবেশ করে। খুব দ্রুত এসব যন্ত্রপাতি ও মেশিন চলে আসবে বলে জানিয়েছেন, টাকা মটরস-প্রতিনিধি অমিতাভ রায়। এটিই কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনে প্রথম কারখানার উদ্যোগ। এ উপলক্ষে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট মোস্তফা সাজ্জাদ হাসান ও এলাকার গণ্যমান্য লোকজন ভারতের টাটা মটরস লিমিটেডের বাংলাদেশী সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিতা কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আমিতাভ রায়কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় স্থানীয় লোকজনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা এই ইকোমিক জোনো বড় ধরনের একটি গাড়ির কারখানা গড়ে তুলবেন। আগামী এক বছরের মধ্যে হয়ত কারখানটি উৎপাদনে যাবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার লোকজনের কর্মসংস্থান হবে। ইকোনমিক জোনের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা সাজ্জাদ হাসান জানান, এই ইকোনমিক জোন এলাকার চেহারা বদলে দেবে। শুধু মটরগাড়ির কারখানা নয়, টাটার আরেকটি স্টিল কারখানা হচ্ছে এখানে। এ কারখানা থেকে টাটা শক্তি নামে ঢেউটিন উৎপাদন হবে। তাছাড়া নিটল-নিলয় গ্রুপ বড় আকারের সিরামিকও স্থাপন করবে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি আর কিছু গ্রুপ কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখাচ্ছে। আশা করছি, আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে এলাকার কোনো লোক বেকার থাকবে না। স্থানীয় লোকজন জানান, যে এলাকাটিতে ইকোনমিক জোন হয়েছে, সেখানে এক সময় কালিয়াচাপড়া চিনি কল ছিল। মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার শত শত মানুষ তাদের কর্ম হারায়। তবে দেরিতে হলেও এখানে একটি ইকোনমিক জোন হয়েছে। যাতে নতুন নতুন কারাখানার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কারখানায় স্থানীয় লোকজনই বেশি কাজ করবে। এ কারণে তারা খুব খুশি হয়েছে। তাদের একটাই দাবি, উদ্যোগগুলো যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়। কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেডের ( কেইজেড) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ৯২ একর জমিতে স্থাপিত এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষ হয়ে আসছে। একদিকে ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে, অন্যদিকে কল-কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। তারা আরও জোরেশোরে কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যেন আগামী ছয়-সাত মাসের মধ্যে গাড়ি কারখানাটি চালু করা যায়।

