উভার চালক হেলাল হত্যায় জরিত ৩ শিক্ষার্থী আসামি গ্রেফতার
এম.এ হালিম,ভৈরব প্রতিনিধি ॥
উভার চালক হেলাল উদ্দিন কে গলা কেটে হত্যা কান্ডে জড়িত মূল আসামি ৩ শিক্ষার্থী কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা । হত্যাকান্ডে জড়িত মূল আসামিরা হলো ঢাকা তেজগাও কুনিপাড়ার মোঃ ফজলুর রহমান পুত্র হাফিজুর রহমান শুভ (১৪), পূর্ব নাখাল পাড়ার শহীদুল ইসলামের পুত্র আবু কাওসার শান্তু (১৮) তেজগাঁও নাখালপাড়ার রাশেদ আহম্মেদ এর পুত্র মোঃ শহীদ আফ্রিদি (১৮) । তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমান স্থানীয় ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০ম এবং বাকি ২ জন একাদশ শ্রেণীর শির্ক্ষার্থী বলে জানায় র্যাব ।র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এবং সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান বুধবার বিকালে পূর্ব নাখালপাড়া লিচুবাগান তেজগাঁও এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে । জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব আরো জানায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মালিহাতি এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ থেকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ গলাকাটা অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর র্যাবের দৃষ্টিগোচর হয়। তখন থেকে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের চৌকস গোয়েন্দা দল ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। প্রাথমিক অবস্থায় কোন ধরনের সূত্র ছাড়াই র্যাব সদস্যরা ঘটনা উৎঘাটনে ও আসামী গ্রেফতারের কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে মৃতদেহ সনাক্ত হওয়ার পর তার নিহত হেলাল উদ্দিনের স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সদর থানার মামলা নং-০৬ তারিখ ০১/১০/২০১৮ খ্রিঃ ধারা ৩৯৪/৩০২/৩৪ পিসি রুজু করা হয়। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের আভিযানিক দল তাদের গ্রেফতার করা হয় ।গ্রেফতারকৃত আসামীগণ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, হাফিজুর রহমান শুভ(১৪) তার অপর ০২ সহযোগীকে চোরাই গাড়ী সংগ্রহের মূলধনের টাকা জোগাড়ের জন্য চোরাই সিম ক্রয় করে উবার এ্যাপসের মাধ্যমে বিগত ২৭/৯/২০১৮ খ্রিঃ ঢাকা থেকে হবিগঞ্জে তার অসুস্থ খালাকে দেখতে যাওয়ার নামে বানোয়াট গল্প তৈরী করে নিহত চালক হেলাল উদ্দিন (৩৫) এর ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কার নং ঢাকা মেট্রো গ- ২১-২৮২৩ তারা ৮০০০ টাকায় ভাড়া নেয়।
পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তেজগাঁও এলাকার নাবিস্কো নামক স্থান হতে তারা ভাড়াকৃত প্রাইভেটকারে না উঠে ওই দিন রাত ৮ টার পর তারা মগবাজার থেকে প্রাইভেট কারে উঠে, ঢাকা হতে হবিগঞ্জের উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করে। রাত আনুমানিক ০২ টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানার কাটাখালি নামক স্থানে পৌছলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামী হাফিজুর রহমান শুভ এবং আবু কাওসার শান্ত লোহার রড দিয়ে হেলালের মাথায় আঘাত করে । পরে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রথমে শান্ত ও পরে শুভ তার গলায় ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গাড়ির পিছনের ডালাতে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে লাশ ও হত্যাকান্ডের আলামত ব্য্রাক্ষণবাড়িয়ার মালিহাতি ফেলে প্রাইভেট কার নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। আসামীদের নিকট হতে আলামত হিসেবে উক্ত গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো জানায় যে, ছিনতাই করে নেয়া প্রাইভেটকারটি তারাবিজয় স্মরনী ফ্লাইভারের নীচে রাখে । পরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ পরিত্যাক্ত হিসেবে গাড়িটি উদ্ধার করে।

