পাকুন্দিয়ায় ভাসমান বেডে রোপা আমন ধানের বীজতলা ও পাকচং ঘাস চাষ
স্টাফ রিপোর্টার:
জলাবদ্ধ এলাকায় নাবিতে সঠিক বয়সের চারা রোপন নিশ্চিত করতে ও যে সমস্ত কৃষকদের বীজতলা তৈরী করার জায়গা নেই তাদের চারা তৈরীর বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ভাসমান বেডে রোপা আমন বীজতলা তৈরী করা হয় ।এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করতে প্রথমে ১০মিঃ দৈর্ঘ্যরে ও ১.২৫ মিঃ প্রস্থের বাশের ফ্রেম তৈরী করে তা পানির উপর রেখে তাতে চার পাশের কুচরি পানা স্তুপ আকারে রেখে তার উপর ২-৩ সেন্টিমিটার কাদা মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপর প্রতি বর্গমিটারে ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম বীজ ফেলতে হয় ।১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সে চারা রোপনের উপযোগী হয় । খরচ কম ও স্বল্প সময়ে রোপন উপযোগী এবং অতিরিক্ত কোন চাষযোগ্য জমি ব্যবহার না করে চারা উৎপাদন করতে পারায় কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। পাকুন্দিয়া উপজেলার আংগিয়াদী গ্রামের হুলহুলিয়া খালে কৃষক নুরুল ইসলাম , হাদিউল ইসলাম, আলাউদ্দিন,আতাবুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন কৃষক এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করেন ।তাদের কাছে জানতে চাইলে বলেন বীজতলা তৈরীর জায়গা স্বল্পতার কারনে আবার কেউ সময়মত বীজতলা তৈরী করতে না পারায় দ্রুত চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে ও বীজতলা তৈরীর খরচ কমানোর জন্যই কৃষি বিভাগের পরামর্শে এই ভাসমান পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করেন ।এ বিষয়ে আংগিয়াদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার মোহাম্মদ হামিমুল হক সোহাগ বলেন বিভাগীয় নির্দেশনা মোতাবেক কৃষকদের ভাসমান বেডে রোপা আমন বীজতলা তৈরী করানো হচ্ছে সাথে পাকচং ঘাসের কাটিং রোপন করা হয় এতে বেড থেকে চারা উঠানোর পর তা পাকচং ঘাসের বেড হিসেবে ব্যবহার করা হবে যা গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হবে এতে কৃষক একই খরচে ধানের চারা ও ঘাস দুটোই উৎপাদন করতে পারল। উপজেলা কৃষি অফিসার ড. গৌর গোবিন্দ দাশ বলেন ভাসমান বেড তৈরি করে তাতে কৃষক রোপা আমন বীজতলা ও পরবর্তীতে সবজি ও ঘাস চাস করতে পারবে এবং বেড তৈরী পদ্ধতি অনেক সহজ কম খরচে একজন কৃষক সারা বছর এ বেডে ফসল উৎপাদন করতে পারবে এতে কৃষক লাভবান হবে ।

